মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে রোপা আমন (ব্রি-৭৫) ধানের নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠান সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকার একটি ফসলের মাঠে এ নমুনা শস্য কর্তন করা হয়।
নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ খামারবাড়ি ক্রপসিং উইং পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন খামারবাড়ি ক্রপসিং উইং-এর অতিরিক্ত পরিচালক আলিমুজ্জামান মিয়া, সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান, মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী, জেলা পরিসংখ্যান অফিসার নন্দিতা দেব, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার মোনালিসা সুইটি, নিরাপদ পান উত্পাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি প্রকল্প পরিচালক তরিকুল ইসলাম টুটুল।
কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, কম সময়ে অধিক ফলন হয় এমন জাতের ধান জমিতে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৭৫ জাতের ধান। এ ধান ১১৫ দিনে ফসল কাটার জন্য উপযোগী হয়ে যায়। ব্রি-৭৫ জাতের চাল সরু থাকায় খেতে অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করেন। এর চাল মানসম্পন্ন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। হেক্টর প্রতি এ ধানের উত্পাদন সাড়ে ৫ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে। এছাড়াও জমি থেকে ধান কাটার পর একই জমিতে সময়মতো রবিশস্য যেমন সরিষা, সূর্যমুখি, ভুট্টা, ডাল চাষ করা যায়। রবিশস্য চাষাবাদ বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে তৈল ও ডাল আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী জানান, এ বছর রোপা আমনের আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ১৫০ হেক্টর জমিতে। রোপা আমন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৪০৫ মেট্টিক টন চাল। তিনি বলেন, এ মৌসুমে ব্রি ধান-৪৯ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও চাষ হয়েছে হাইব্রিড, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫২ ধান। নতুন ধান ব্রি-৭৫ ভালো হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-১৪ ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন জানান, এ বছর তারা ১৩০ কেয়ার জমিতে রোপা আমন ব্রি ধান-৪৯, বিআর ১১ ও পরীক্ষামূলক ২ কেয়ার জমিতে ব্রি ধান-৭৫ চাষ করেছেন। প্রত্যেকটি জাতের ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পকালীন ব্রি ধান-৭৫ আশাতিত ফলন হয়েছে। গতবছর আমন মৌসুমে ১৩০ কেয়ার জমিতে ১ হাজার ৯৭০ মণ ধান পেয়েছেন। এ বছরও ২ হাজার মনের বেশি ধান পাবেন বলে আশাবাদী। তবে তিনি ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন বলে জানান।
