উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে ফেরেননি খুবির ৩৭ শিক্ষক!

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:০৫

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ জন শিক্ষক বিভিন্ন সময় উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। শুধু তাই নয়, ঐ শিক্ষকরা যে দেশে গেছেন আদৌ সেখানে আছেন কিনা, তাদের বর্তমান অবস্থানই-বা কোথায়, সে সম্পর্কে জানা নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। দেশে ও বিদেশের ঠিকানায় এসব শিক্ষক ও তাদের জামিনদারদের (গ্যারান্টার)  চিঠি দিয়েও সাড়া মিলছে না।

খুবি সূত্র জানায়, শিক্ষাছুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়া নতুন কিছুই নয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এজন্য একজন শিক্ষক সাত বছর ছুটি পান; যার পাঁচ বছর পেয়ে থাকেন পূর্ণ বেতন সুবিধা, পরবর্তী এক বছর অর্ধেক বেতন। এছাড়া বিনা বেতনে কাটাতে পারেন আরো এক বছর। তবে এসব ক্ষেত্রে দেশে ফিরে শিক্ষাছুটির সমপরিমাণ সময় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার শর্তেই শিক্ষকদের ছুটি মেলে।

উক্ত শর্তগুলো মেনে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে দেশে ফেরেননি ৩৭ জন। যাদের তিন জনকে বরখাস্ত ও  পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এছাড়া আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার সাধন রঞ্জন ঘোষ বলেন, কেউ কেউ ইনস্টলমেন্টের টাকা ফেরত দিয়েছে; আবার কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আর যারা আসছেন না, এটা  ক্ষমাহীন অপরাধ। এই জায়গাটায় তাদের দেশপ্রেম, তাদের নৈতিকতা সব কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে গিয়ে শিক্ষকেরা কেন ফিরছেন না—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। দরকার বিশ্বিবিদ্যালয়গুলোতে উন্নত গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টির।

খুবির ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শরীফ হাসান লিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হলেন বিশ্ব সম্পদ। তিনি তো জ্ঞান ছড়াতে চাইবেন, তিনি রিসার্চ করতে চাইবেন, তিনি যখন পরিবেশ পাচ্ছেন না—এই রকম পরিস্থিতির কারণে অনেকে হয়তো বিদেশে চলে গেছে।

এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ জামান বলেন, বেতন-ভাতার সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষার নামে বিদেশ গিয়ে ফেরত না আসা দুঃখজনক। তারা একটি কথা বলেন, এখানে কাজ করার সুযোগ-সুবিধা কম। সরকার কিন্তু এখন অনেক ধরনের শিক্ষাসহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর এর মধ্যেই দেশে অনেক বড়ো বড়ো বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছেন। একটা সময় এ দেশে কিছুই ছিল না। তার মধ্যেও বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ছিলেন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র ছিলেন।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশ গিয়ে শিক্ষকদের দেশে না ফেরায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মেধাসম্পন্ন মানুষ হারাচ্ছে দেশ। যা বন্ধ হওয়া জরুরি।