জ্যাষ্টিন গোমেজ
একজন নারী। যে কোনো বয়সের। শিশু হতে পারে, বালিকা কিংবা তরুণী হতে পারে আবার বয়স্কও হতে পারে। যত্রতত্র তারা নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারেন? নিশ্চিত ভয় পায় কিংবা বিপন্ন বোধ করে। প্রতিনিয়তই চেষ্টা করবে দ্রুত নিরাপদ স্থলে আশ্রয় নিতে! তার প্রধান কারণ হলো—এই সমাজের কোথাও গভীর কোনো অসুখ রয়েছে। আর সেই রোগটার নাম পিতৃতন্ত্র বা পুরুষতন্ত্র। এটার অংশ নারীরাও হতে পারেন। যেমন—যে নারীরা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের গায়ে আগুন লাগাতে গিয়েছিল, তারাও ঐ পুরুষতন্ত্রেরই অংশ। একই সঙ্গে শিকার এবং শিকারি। সন্দেহ নেই, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানির একটা প্রধান কারণ পুরুষতন্ত্র। পুরুষ জোর খাটাতে পারে, এটাই প্রধান কারণ। এর বিপরীতে সমমর্যাদা, প্রতিটা মানুষকে সম্মান করতে শেখা, মর্যাদা দেওয়ার এই ধারণা পুরুষ সমাজে অনুপস্থিত। নারী যে অধস্তন, এটা আমাদের বালক সমাজে একটা স্বাভাবিক ধারণা হিসেবে কায়েম ছিল। এখনো আছে। সেখান থেকেই বহু সর্বনাশা আচরণের সূত্রপাত।
সম্প্র্রতি বেড়েছে নারী ও শিশু ধর্ষণ। ধর্ষণেই শেষ না, হত্যাও করা হচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে? অপহরণের পর নারীদের ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। তাই পরিবার থেকেই কন্যা শিশু ও ছেলে শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বিরোধী মূল্যবোধ শেখাতে হবে। যেন বড়ো হয়ে ভবিষ্যতে সে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকে। আর এক্ষেত্রে, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে ঘরে থাকার সময়ে যত্নশীল হতে শেখাতে হবে। শিশুর সামান্য ক্ষতি হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তির কাছে যেতে দেওয়া যাবে না। কন্যা শিশুকে বাসায় একা রেখে কোথাও যাওয়া উচিত নয়।
নারী-শিশুর অবমাননা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একটা সামাজিক আন্দোলন, সামাজিক প্রতিরোধের জোয়ার সৃষ্টি করা দরকার। আর কবে আমরা জেগে উঠব! প্রতিবাদ করব! প্রতিরোধ করব! নারী নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণ বন্ধ করতে হবে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। ধর্ষণ রোধে মনিটরিং বা নজরদারি জোরদার করতে হবে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ফলে দেখা যাবে, অপরাধীরা শাস্তি পেলে অপরাধ কমবে। তাই সামাজিক অপরাধ বন্ধ করতে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিটা মানুষের জীবন মূল্যবান। দেশের প্রতিটি নাগরিককে বুঝতে হবে, নারী এবং পুরুষ সমান; এবং নারীকে বিশেষভাবে সম্মান করতে হয়। এটা ঘরে কিংবা বাইরে হোক। সম্মান করতে হবে নিজের স্ত্রীকে, মাকে, বোনকে, ভাবিকে, বান্ধবীকে, প্রেমিকাকে, সন্তানকে, দাদি-নানি-খালাকে, ছাত্রীকে, শিক্ষিকাকে, পরিচিতাকে, অপরিচিতাকে। স্বপ্ন দেখি, ভালো থাকুক পৃথিবীর সব নারী, ভালো থাকুক সব নিষ্পাপ বাচ্চাগুলো।
n লেখক :এমএসএস (অর্থনীতি)
তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
