বরিশাল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচনে ফের মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের অতীতের প্রার্থীরা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম, বিএনপি’র মজিবর রহমান সরওয়ার ও ইসলামী আন্দোলন থেকে সৈয়দ ফয়জুল করিম প্রার্থী হয়েছিলেন। বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম পরাজিত হলেও ভোটের ব্যবধান অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঐ নির্বাচনে মজিবর রহমান সরওয়ার ১ লাখ ৪ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ৬৪১ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ২৭ হাজার ১৩৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। এবারের নির্বাচনেও এ তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে থাকায় ত্রি-মুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন এখানকার ভোটাররা।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিএনপি’র সাবেক এমপি ও মেয়র মজিবর রহমান সরওয়ার’র দুর্গ নাজুক হয়ে পড়ে। সিটি নির্বাচনের এ পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে জাতীয় নির্বাচনে সরওয়ারকে দল থেকে প্রার্থী নির্বাচন করলেও জাহিদ ফারুক শামীমের অতীতের ভোটের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নবনির্বাচিত সিটি মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ নেতৃত্ব দেয়ায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। কেননা প্রয়াত সাবেক সিটি মেয়র ও এমপি মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর এখানকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্বে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। আধুনিক সিটি করপোরেশনের রূপকার জনপ্রিয় নেতা শওকত হোসেন হিরনের ন্যায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও দলের ইমেজ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন থেকে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর চরমোনাই পীরের সহোদর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। আসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদর উপজেলার বৃহত্ অংশ নিয়ে চরমোনাই ইউনিয়ন গঠিত। এ ইউনিয়নের রিজার্ভ ভোটের পাশাপাশি দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর এর প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর চরমোনাই’র পীর সাহেব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ১০ বছর পর এ তিন প্রার্থী পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে চারবারের এমপি ও একবারের মেয়র মজিবর রহমান সরওয়ারকে মোকাবেলা করতে হবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগকে। পূর্বের নির্বাচনগুলোতে সরওয়ার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া সরওয়ার সম্প্রতি সিটি নির্বাচনে পাশে পাননি দলের নেতা-কর্মীদের। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রেই সরওয়ারের কর্মীদের দেখা মেলেনি। এ নির্বাচনে সরওয়ারের চেয়েও মাঠে শক্ত অবস্থানে ছিলো ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও কর্মীরা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছাড়াই ২০০৮ সালে জীবনের প্রথমবারের নির্বাচনে কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হন। এবার জাহিদ ফারুক শামীমের সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের এ নতুন নেতৃত্ব মোকাবেলা করতে আসনের নতুন প্রজন্মের ৫৫ হাজার ভোটার ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবারের নির্বাচনে। সেক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিএনপি’র সরওয়ার এ নতুন ভোটার কতটা নিজের পক্ষে আনতে পারবেন সেটাই দেখার বিষয়।
বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর ও সিটি) আসনে ৫৫ হাজার ৩৯ জন ভোটার ও ১৫টি ভোটকেন্দ্র বেড়েছে। বর্তমানে এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ জন। যারমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯৮ জন ও ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
