নাগরিক সুবিধা
বাড়াতে চাই
রাশেদ খান মেনন, মহাজোট প্রার্থী, ঢাকা-৮
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবারও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের (মহাজোট) প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা-৮ আসনে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি গত ১০ বছর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বিবরণ তুলে ধরে ভোট চাইছেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচনী এলাকা হচ্ছে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। জাতীয়ভাবে এই এলাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বঙ্গভবন ও ঢাকার স্বনামধন্য স্কুল-কলেজগুলো এ এলাকায় অবস্থিত। তাই আমার চ্যালেঞ্জটাও খুব বড়। মেনন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় আমি ভোটারদের কাছে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীতে নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন ও এলাকাবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেবেন বলে জানালেন।
প্রসঙ্গত, রাশেদ খান মেনন ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মেনন।
এই এলাকায় নৌকার
বিজয় হবেই
সাবের হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ঢাকা-৯
ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, নৌকা বিজয়ী হলে জনগণ বিজয়ী হয়, নৌকা যখন সরকার গঠন করে সমগ্র বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। আসুন আমরা সকলে মিলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করি। তিনি বলেন, আমরা যদি প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রতিটি ভোটারের কাছে বার বার নৌকায় ভোট চাই, তাহলে আগামী নির্বাচনে এই এলাকা থেকে নৌকার বিজয় হবেই, কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা থানা নিয়ে গঠিত এ আসন। এই নির্বাচনী এলাকায় ৯১ ও ২০০১ সালে জয় পায় বিএনপি। বিপরীতে ৯৬, ২০০৮ আর ১৪ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে আওয়ামী লীগ।
সাবের হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, নির্বাচনের তাত্পর্য ৫ বছরের মধ্যে সীমিত থাকে না। কেননা আগামীতে আমাদের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত্ কি হবে, আমাদের আগামী বাংলাদেশ কেমন হবে, যুব সমাজের কর্মসংস্থানের কি কি সুযোগ-সুবিধা থাকবে —তা এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে।
সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর সাথে আছি, থাকব
হাজী সেলিম, আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ঢাকা-৭
ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজী সেলিম নির্বাচনী প্রচারণায় দলবলে নেমে পড়েছেন মাঠে। প্রতিদিনই প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ভোট চাইছেন এলাকাবাসীর কাছে। হাজী সেলিম বললেন, আগামীতে নির্বাচিত হলে পুরানো ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সুয়ারেজ লাইন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। সেইসঙ্গে রাস্তা-ঘাট প্রশস্ত করা এবং গ্যাস সংকট মেটানোর ওয়াদা করেছি এলাকাবাসীর কাছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের জোয়ার বইছে দেশে। সেই জোয়ারে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। তিনি জানান, আমি সুখে-দুঃখে সবসময় এলাকাবাসীর সঙ্গে আছি, থাকব। আমার নির্বাচনী এলাকায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ভোট। আমার বিশ্বাস এর দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নৌকার পক্ষে পড়বে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৭ আসনটি মহানগরের বংশালের একাংশ, কোতোয়ালির একাংশ, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ ও ধানমন্ডির একাংশ নিয়ে গঠিত। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাতি মার্কায় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন হাজী সেলিম।
কীভাবে নির্বাচন
করব বুঝছি না
মির্জা আব্বাস, বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-৮
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দীন আহমেদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিন আমার এলাকায় গড়ে ১০ থেকে ১২জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমার বাড়ির সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই হেনস্তা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কীভাবে নির্বাচন করব তাইতো বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, গত বুধবার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আমার স্ত্রীর গাড়িতে পৈশাচিক হামলা হয়েছে। যুবলীগের কর্মীরা শ্লোগান দিয়ে এই হামলা চালায়।
ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, ওরা কি চায়? আমরা বুঝতে পারছি না। ওরা কি আমাদের নির্বাচন করতে দিবে না। আমরা খাওয়ার সময় পাই না, ঘুমানোর সময় পাই না। আমাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জান বাঁচাতে পারছি না। ভোটারদের কী প্রতিশ্রুতি দেব। তবে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা পালন করে। ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হবে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা।
ভোটারদের কাছে যেতে
বাধা দিচ্ছে ওরা
আফরোজা আব্বাস, বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-৯
বিএনপির মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সহধর্মিনী। আফরোজা আব্বাস বলেন, প্রতি পদে পদে সরকার ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ কর্মীরা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার সৃষ্টি করছে। আমরা কোন ধরনের প্রচারণা চালাতে পারছি না। ভোটারদের কাছে যেতে পারছি না।
বিএনপি নেত্রী বলেন, গত বুধবার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কমলাপুর স্কুল ও মাদারটেক চৌরাস্তার সামনে আমাদের উপর যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। অথচ আমরা সংশ্লিষ্ট থানাকে আগের দিনই আমাদের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম। পুলিশও ছিল, কিন্তু তারা নিরব ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় আমরা কিভাবে প্রচারণা চালাবো। আফরোজা আব্বাস বলেন, সরকার যদি আমাদের নির্বাচন করতে না দেয় তাহলে জানিয়ে দিক। কারণ আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কোন ধরনের সাপোর্ট পাচ্ছি না। তবে হামলাকারীদের ভয়ে আমরা ভীত নই। ওরা চাচ্ছে আমরা যেন নির্বাচন না করি। কিন্তু আমরা কোনভাবেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো না।
জনগণ ভোট দেওয়ার
জন্য মুখিয়ে আছে
মোস্তফা মহসীন মন্টু, ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, ঢাকা-৭
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ধানের শীর্ষ মার্কা নিয়ে ঢাকা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যেখানে যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেছি, জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এই এলাকার মানুষকে নিরাপদ রাখাই হবে আমার প্রথম কাজ। সন্ত্রাস, মাদক ও যানজটমুক্ত এলাকা গড়ে তুলব। তিনি বলেন, এই এলাকায় লালবাগের কেল্লাসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই। মানুষ যাতে সুন্দরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করব।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে পদে পদে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছি। গায়েবি মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আতংক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আচরণবিধি তো মানছে না তারা। খালেদা জিয়া যে কারণে নির্বাচন করতে পারছেন না বলে বলা হচ্ছে, সেই একই কারণে হাজী সেলিম কীভাবে নির্বাচন করছেন? নির্বাচন কমিশন কি করছে তাহলে?
