আজ গাজীপুর মুক্ত দিবস

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৫

আজ ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গাজীপুর মুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার জয়দেবপুর যা বর্তমানে গাজীপুর। ওই দিন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে জয়দেবপুরবাসী। সেদিন শহীদ হন নিয়ামত, হুরমত, মনু খলিফা আর আহত হন অনেকে। সারাদেশে সে দিন শ্লে­াগান উঠেছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরবাসীর রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী বাঙালিদের উপর অতর্কিতে হামলা করার পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ছাত্র, শ্রমিক-জনতা ভারতে চলে যান। ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণশেষে তারা এলাকায় এসে বিভিন্ন পয়েন্টে অপারেশনে অংশ নেন। নভেম্বর মাসে এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের তত্পরতা জোরালোভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালায়। ৩ ডিসেম্বর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনী তাদের আক্রমণ আরো জোরদার করে। ১৩-১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা গাজীপুরে সেনানিবাসে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে পাক হানাদার বাহিনী একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পাক বাহিনী গাজীপুর ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। গাজীপুর এবং সমরাস্ত্র কারখানা ও রাজেন্দ্রপুর অর্ডিন্যান্স ডিপো থেকে পাক হানাদাররা ঢাকার পথে চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হতে থাকে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল অর্থাত্ ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল থেকে পাক হানাদাররা ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও কাদেরিয়া বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে ঢাকার দিকে পিছু হটতে থাকে। তারা টাঙ্গাইল সড়কযোগে পিছু হটে চান্দনা চৌরাস্তায় একত্রিত হতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা কড্ডা ব্রিজটি পুরো ধ্বংস করে দেয়। ফলে পিছু ধাওয়াকারী মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী কোনাবাড়ী হয়ে কাশিমপুরে অবস্থান নেয়। চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হওয়া পাক হানাদার বাহিনীর বিরাট একটা কনভয় ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পথে ছয়দানা এলাকায় পৌঁছলে কাশিমপুর থেকে মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী তাদের উপর কামান ও মর্টারের শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একই সাথে সড়কের দুই পাশ থেকে প্রবল গুলিবর্ষণে পাক হানাদার বাহিনী একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হতাহত হয় অনেক পাক সেনা। পাক বাহিনীর উপর গোলাবর্ষণ ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পাক হানাদার বাহিনী পর্যুদস্ত হবার ফলে মূলত ওই দিনই গাজীপুর মুক্ত হয়। প্রতি বছরই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালন ও শহীদদের স্মরণ করা হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের একদিন পূর্বেই মুক্ত হতে পেরেছি। এ মুক্তি আমাদের মধ্যে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছিল।

গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, গাজীপুরের সর্বশেষ ছয়দানা যুদ্ধে তার মুক্তি বাহিনীর গ্রুপও অংশগ্রহণ করেছিল। তাই সে যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে গাজীপুর মুক্ত হওয়াটা নিঃসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের একদিন আগেই গাজীপুর মুক্ত হওয়ার পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাকে আমি স্যালুট জানাই।