পোলট্রি ফিডের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয় সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন ও মদ। দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এসব পণ্য আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে এসব পণ্য আটকের পর জানা গেল, এসব পণ্যের আড়ালে প্রতিষ্ঠান দুটি ৮৭০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। অন্যদিকে শুল্কসুবিধা নিয়ে যন্ত্রপাতির আড়ালে উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানি করার ফলে বড়ো অঙ্কের শুল্ক ফাঁকিও দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আমদানিকারক হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামে প্রতিষ্ঠান দুটির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এসব আমদানি চালানের একটি বাদে ১৪টি এসেছিল ২০১৬ সালে। বাকি একটি চালান এসেছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। এসব আমদানি চালানের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অবমূল্যায়ন ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা মনে করছি প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ১৫টি আমদানি চালানে প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বন্দরের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে বলে মনে করছি।’
সূত্র জানিয়েছে, গতকালই রাজধানীর পল্টন থানায় আলাদা ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিড অ্যান্ড জেপি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মোতালেব। চট্টগ্রাম বন্দরে পোলট্রি ফিডের মাধ্যমে সম্প্রতি পোলট্রি ফিডের মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ ও আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্য খালাসের চেষ্টা করে। এরপর কন্টেইনারগুলো আটক করে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, টিভি, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে পল্টন থানায় অর্থ পাচারের অভিযেগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচ্য কনটেইনারে মালামাল আটকের আগেই হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ৩২টি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ৪৬টিসহ মোট ৭৮টি কনটেইনারে মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণায় ১৫টি ঋণপত্রের বিপরীতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হওয়ার যুক্তি হিসেবে বলা হয়, যেহেতু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটি অস্তিত্বহীন, একই প্রক্রিয়ায় একই দেশ থেকে রপ্তানি, একই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং একই ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে, ফলে এসব আমদানিতেও মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হয়েছে।
একই দিনে টেরাকোটা রপ্তানির নামে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে আরো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
