বাংলাদেশে দমন-পীড়ন বেড়েছে :হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২৯

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী মত প্রকাশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় সহিংসতা রোধে এবং সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের চাপ দেওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়,  বিচার বহির্ভূতভাবে গ্রেফতার, বিক্ষোভকারী ও বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের শাস্তি দেওয়া এবং ক্ষমতাসীন দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের দ্বারা সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিরোধীদলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান এবং কার্যক্রমকে আইনি বৈধতা দেওয়া অস্পষ্টভাবে বর্ণিত নীতিমালার কারণেও নির্বাচনের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এ রকম অবস্থায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করে এইচআরডব্লিউ।

সংগঠনটির এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, স্বতন্ত্র ও বিরোধীকণ্ঠকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দমন করছে আওয়ামী লীগ সরকার, যাতে ক্ষমতাসীন দল পূর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়। প্রধান বিরোধী দলের সমর্থক ও সদস্যরা গ্রেফতার, হত্যা, এমনকি গুমের শিকার হচ্ছেন, যার ফলে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথে অন্তরায়। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দমন পীড়ন বন্ধ করা। যাতে বাংলাদেশিদের সরকার বেছে নেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার নিশ্চিত হয়। 

বিরোধী দল বিএনপি’র বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে বিরোধীদলের কর্মী-সমর্থকদের ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মামলার অধীনে কয়েক হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা যদিও ‘সবাই যেন নির্বাচনী আচরণবিধি’ মেনে চলে সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ কমিশন ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন দিচ্ছে।

ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবাধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর উচিত অতিসত্ত্বর মানবাধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিবৃতির বিষয়ে সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।