কিছুদিন আগেও বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় গাইবান্ধার জেলা ও উপজেলা সদর এবং জেলার বড়ো বড়ো হাটবাজারে সিনেমা হলগুলোতে দর্শকসংখ্যা ছিল অনেক বেশি। প্রতিটি হলে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে চারটি প্রদর্শনীতেই নারী ও পুরুষ দর্শকে পরিপূর্ণ থাকতো। কিন্তু এখন সে অবস্থা আর নেই। সেজন্য দর্শক শূন্যতায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাইবান্ধার সিনেমা হলগুলো। বন্ধ সিনেমা হলগুলো ভেঙে ফেলে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক সব বিপণি বিতান। এতে সিনেমা হলে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় সিনেমা হল ছিল ৩২টি। এরমধ্যে জেলা শহরে ছিল তিনটি সিনেমা হল। আর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে ছিল তিনটি ও মহিমাগঞ্জে তিনটি, পলাশবাড়ী সদরে দুইটি ও এ উপজেলার কোমরপুরে দুইটি এবং ঢোলভাঙ্গায় দুইটি, সাদুল্লাপুর সদরে একটি, ধাপেরহাটে দুইটি ও নলডাঙ্গায় দুইটি, সুন্দরগঞ্জ সদরে দুইটি, বামনডাঙ্গায় দুইটি, সাঘাটা সদরে দুইটি ও বোনারপাড়ায় দুইটি, ফুলছড়ি সদরে দুইটি, কালিরবাজারে একটি ও জুমারবাড়িতে একটি। এছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে একটি ও দারিয়াপুরেও ছিল দুইটি সিনেমা হল।
সূত্রটি আরো জানায়, দর্শকশূন্যতায় এখন এই জেলায় নিয়মিত সিনেমা হল চালু রয়েছে মাত্র দুইটি। এরমধ্যে একটি হচ্ছে জেলা শহরে তাজ সিনেমা হল আর অপরটি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের হিরক সিনেমা হল। এছাড়া মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে চলে আরো তিনটি হল। এগুলো হলো—পলাশবাড়ীর কোমরপুর, সুন্দরগঞ্জ সদর ও সাঘাটার জুমারবাড়িতে একটি সিনেমা হল।
জেলার দুটি প্রাচীন সিনেমা হল মায়া ও চৌধুরী সিনেমা হল ভেঙে এখন সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই চৌধুরী সিনেমা হলের মালিক আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানালেন, সিনেমা হল বন্ধের অন্যতম কারণ হলো হলে এখন দর্শক চাহিদা পূরণ করার মতো ভালো মানের সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। দেশি-বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রতিদিন, একাধিক উন্নতমানের নতুন পুরাতন ছবি ঘরে বসেই দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া এখন ইউটিউব, ইন্টারনেট থেকে সহজেই পছন্দমতো সিনেমা নিজের মোবাইলে ডাউনলোডে দেখা যায়। এসব কারণেই সিনেমা হলে দর্শক আসে না। আর দর্শক চাহিদা না থাকায় অর্থ ব্যয় করে ভালো সিনেমাও বানাচ্ছেন না পরিচালকরা।
