নাইমুলের লাশ উত্তোলন, আজ ময়নাতদন্ত

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:০৬

দৈনিক প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের লাশ গতকাল উত্তোলন করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সময়ের অভাবের কারণে গতকাল লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি।

চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, সোনাইমুড়ী থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে নিয়ে আসতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়নি। আজ রবিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

অপরদিকে নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গতকাল বিকালে কাওরানবাজারে দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলে ‘এটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নয়’, ‘আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’, ‘জাস্টিস ফর নাইমুল আবরার’ ইত্যাদি শিরোনামে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

বিকাল ৪টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি সার্কফোয়ারা মোড় থেকে শুরু হয়ে আম্বরশাহ জামে মসজিদ, প্রগতি ভবন ও সিএ ভবনের চারদিক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৬ নভেম্বর নাইমুলের বাবা মো. মজিবুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে নাইমুলের মরদেহ কবর থেকে দ্রুত উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি ও সোনাইমুড়ী সংবাদদাতা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে ধন্যপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে নাইমুলের লাশ উত্তোলন করা হয়। নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় তার পিতার দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলীম আদালতের নির্দেশনার কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন। জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিছিলের নেতৃত্বে একটি টিম নাইমুলের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে উপস্থিত হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল, ওসি আবদুস সামাদ ও মৃতের চাচা মাওলানা মোহাম্মদ উল্যা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক মহিউদ্দিন মো. আবদুল আজিম জানান, মর্গে লাশ আনা হয়েছে। তবে বিলম্বে পৌঁছার কারণে গতকাল ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। আজ সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

গত পহেলা নভেম্বর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে চলছিল কিশোর আলোর অনুষ্ঠান। ঐ অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাত। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নিকটের হাসপাতালে না পাঠিয়ে, তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।