খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে খুলনা-২। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই আসনটি। নগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত এই আসন। এই আসনটিকে বলা হয় বিএনপির দুর্গ। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এছাড়া এই আসনের সবকয়টি কেন্দ্রে এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়েও এই আসনের ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আলাদা অনুভূতি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে লড়ছেন সাতজন প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল (নৌকা), ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত মহানগর বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), গণফ্রন্টের মনিরা বেগম (মাছ), জাকের পার্টির কে এম ইদ্রিস আলী বিল্টু (গোলাপ ফুল), সিপিবির এইচ এম শাহাদত (কাস্তে) এবং বিএনএফের এস এম সোহাগ (টেলিভিশন)।
খুলনা-২ আসনের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৯ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৩ জন। এ আসনে পুরুষের চেয়ে ৭২৪ জন নারী ভোটার বেশি।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দশম জাতীয় সংসদের আগ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। ওই নির্বাচন বিএনপি বয়কট করায় মিজানের জয়লাভ করতে তেমন কঠিন হয়নি। কিন্তু এবার মিজানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তার বদলে এবার মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল।
আরো পড়ুন: বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া নারী তারকাদের শীর্ষে দীপিকা!
অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। এই আসনে মঞ্জুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। খুলনা-২ আসনের সাধারণ ভোটারদের ধারণা এই আসনে সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই দুই ভিআইপির লড়াই হবে।
১০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীক পেয়েই জোর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের মুখে মুখে ফিরছে মহাজোট প্রার্থী সেখ জুয়েল ও ঐক্যফ্রন্ট ফ্রন্টের প্রার্থী মঞ্জুর নাম। তবে প্রথম দিন থেকেই প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন সেখ জুয়েল। অপরদিকে মঞ্জুও সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়ছেন গণসংযোগে। সব মিলিয়ে এই আসনের ভোটারদের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই ভিআইপির মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
