স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেট ম্যাচ পাতানো ও জুয়া বন্ধে কঠিন ও সাহসী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। গত কয়েকটা বছর যখন ফিক্সি ও বেটিং-সহ নানা ইস্যুতে জর্জরিত লঙ্কান ক্রিকেটার তখন, প্রথমবারের মতো কঠিন আইন তৈরি করেছে সংস্থাটি।
এসএলসি ও শ্রীলঙ্কার সরকার ফিক্সিং সংক্রান্ত নতুন আইন পাশ করেছে। নতুন এই আইনে কেউ ফিক্সিংয়ে জড়িত আছেন বলে প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ ১০ কোটি লঙ্কান রুপি (পাঁচ লাখ পঞ্চান্ন হাজার ডলার) জরিমানা করা হবে।
এমনিতেই শ্রীলঙ্কার খেলাধুলায় জুয়া নিষিদ্ধ, এখন নতুন আইন অনুযায়ী দেশের বাইরেও কোনো শ্রীলঙ্কান ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না। এখানেই শেষ নয়, জুয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যে পরিবারে থাকবেন, সেই পরিবারের কেউই কখনো কোনো ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
এই আইন পাশ করার পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ আছে। গেল বছর দুর্নীতির অভিযোগে নিষিদ্ধ হন সাবেক লঙ্কান ফাস্ট বোলার দিলহারা লোকুহেত্তিগে। আসলে, তিনি হলেন আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আইন ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ হওয়া তৃতীয় ক্রিকেটার। একইরকম অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক সনাথ জয়াসুরিয়া ও সাবেক পেসার নুয়ান জয়সাও। এমনকি সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জয়াসুরিয়া আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ আকসুকেও তদন্তের কাজে অসহযোগিতা করেছিলেন। তাই এসএলসির সাবেক এই নির্বাচককে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। আর জয়সা নিষিদ্ধ হয়েছেন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে।
নতুন পাশ হওয়া এই আইনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো। ‘আইসিসির বিবেচনায় শ্রীলঙ্কা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ক্রিকেট দেশ’—শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীর এই মন্তব্যের এক মাসের মাথায় ক্রিকেট মাঠের দুর্নীতি ঠেকাতে নতুন আইন পাশ করল দেশটি। হারিন এবার তাই বললেন, ‘এই আইন যাতে পাশ হতে না পারে, সেজন্য অনেকেই অনেক রকম চেষ্টা করেছে। তবে আনন্দিত যে, চেষ্টাটা সফল হয়েছে, আইন এখন আরো শক্ত করা হয়েছে।’
নতুন এই আইনের ফলে, এসএলসির সাবেক সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালার বোর্ডে ফেরার পথ একরকম বন্ধই হয়ে গেল। কারণ, কিছুদিন আগেও বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য সুপাথিপালার পারিবারিক জুয়ার ব্যবসা রয়েছে। তবে নিজে সেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে অনেকবারই জানিয়ে এসেছেন।
