নলছিটিতে বুলবুলের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু, নলছিটি (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বুলবুলের ভয়াবহ তাণ্ডবে শত শত বসতঘর, পানের বরজ, হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুত্ বিভাগের খুঁটি ওপরে পড়ে বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টানা তিন দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় জনজীবন বির্পযস্ত।

সুগন্ধা, বিষখালী ও খয়রাবাদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু অঞ্চলের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা তিন দিনের ঝড়-বন্যায় সবচেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে হতদরিদ্র মানুষগুলো। বুলবুলের তাণ্ডব শেষে সরই গ্রামের আ. জলিল, আইয়ুব আলী খান, আদম আলী, তপন মণ্ডল, সহিদুল ইসলাম, পপি মণ্ডলসহ শত শত মানুষ বাড়ি ফিরে দেখেন গাছ পড়ে বসতঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

সোমবার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন জনপদ ঘুরে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে নলছিটি পৌর এলাকাসহ ১০টি ইউনিয়নের শত শত হতদরিদ্র মানুষের বসতগৃহে গাছ পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে শত শত পানের বরজ নষ্ট হয়েছে, বিদ্যুত্সংযোগ বিছিন্ন হয়েছে। নিচু অঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে বাড়ির আঙিনায় উত্পাদিত কৃষিপণ্য নষ্ট হয়েছে। উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর আমন ধান ও সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে।

ঐ গ্রামের মো. সেলিম মোল্লা, মোহাজ্জেম মোল্লা, মিন্টু বিশ্বাস, ফণী মণ্ডলসহ অনেক ব্যক্তির পানের বরজ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

সরই গ্রামের হতদরিদ্র তাপস কুমার ওরফে তপন মণ্ডল জানান, তিনি এখন গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে বসতঘর।

ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনালের ম্যানেজার জানান, মাঠ পর্যায়ে বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজন কাজ করছে। প্রকৃত ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকায় ক্ষতি কম হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

কুলকাঠি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের সরই, বারইকরন, কুলকাঠি, পাওতা, দেলদুয়ার, তৌকাঠি, হয়বাত্পুর, কাপড়কাঠি, বিহঙ্গল, হাড়িকালী, আখরপাড়া, বিকপাশা গ্রামে গাছ পড়ে দুই শতাধিক বসত গৃহ বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি জানান, তার উপজেলায় ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির আমান ধান এবং ১৫০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোজ্জামেল হোসেন জানান, এখনো কোনো দপ্তরের সঠিক ক্ষতি নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষি, মত্স্য, বনায়ন, বিদ্যুত্ বিভাগের ক্ষতি হয়েছে বেশি।