প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০৪

শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার সময় করণীয়

পরামর্শ

জয়নব আরা বেগম, প্রধান শিক্ষক

আসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আলীকদম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

সামনেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী   পরীক্ষা। একজন শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।  শিশুকাল থেকেই প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে পরিচয় ঘটানো,প্রতিযোগীতামূলক মনোভাব তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এই বিশাল উদ্যোগ। 

এই উদ্যোগকে সামনে রেখেই তোমাদের পথচলা হোক শুরু। প্রতি পদে জয়  হোক তোমাদের। এই প্রত্যাশা নিয়েই তোমাদের পথচলার সারথি হওয়ার জন্য তোমাদের প্রতি আমার কিছু পরামর্শ। এই পরামর্শ তোমাদের প্রতি আমার ভালোবাসা। এই ভালোবাসায় তোমাদের এতটুকু সফলতা আসলে আমার মনোতৃপ্তি জাগ্রত থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাকে সামনে রেখে কিছু পরামর্শ তোমাদের জন্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। প্রতিটি বিষয়টাকে আমাদের অনেক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

আমাদের প্রতি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময় হচ্ছে ২ ঘণ্টা ৩০মিনিট। অর্থাত্ ১৫০ মিনিট। আর প্রতিটি বিষয়ের পুর্ণমান হচ্ছে ১০০।

১৫০ মিনিটের মধ্যেই ১০০ নাম্বারের উত্তর দিতে হবে। সুতরাং ১ নম্বর পাওয়ার জন্য ১ মিনিট ৫০ সেকেণ্ড করে সময় পাওয়া যাবে। তবে শেষের দিকে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় রেখে দেয়ার কথা সব সময় মনে রাখতে হবে।  

তবে  ভয়ের কোন কারণ নেই। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের একটু সচেতনতা ও পুবর্ প্রস্তুতি।

কিছু ক্ষেত্রে আগে থেকেই খেয়াল রাখলে  পরীক্ষার সময় কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

এক্ষেত্রে, এখন থেকেই প্রস্তুতিটা অনুশীলন করে যেতে হবে।

একটু খেয়াল করলেই একজন শিক্ষার্থী গুছিয়ে সুন্দর করে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যথাসময়ে লেখা  শেষ করা যাবে।

নিচের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এখন থেকেই তোমরা প্রস্তুতি নিতে পারো।

îসময় বিভাজন: প্রথমেই অবশ্যই সময়ের প্রতি সচেতনতা বজায় রেখেই তোমাদের কলম চালাতে হবে। প্রতিটা প্রশ্নের মানবন্টন খেয়াল রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উত্তর লিখা শেষ করা চাই।

îধারাবাহিকতা বজায় রাখা: সব সময় চেষ্টা করতে হবে যেনো উত্তরপত্রে উত্তর লিখার সময় ১ম থেকে শেষ ক্রমিক পর্যন্ত ধারাবাহিকতার সাথে উত্তর দিতে। এতে তোমার উত্তরপত্র একটি আদর্শ উত্তরপত্র হিসেবে গণ্য হবে। যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। সবার উচিত সবসময় আদর্শ হতে চেষ্টা করা।

îওভার রাইটিং না করা: উত্তরপত্র সবসময় পরিষ্কার হওয়া বাঞ্চনীয়। যদি কোনো কারণে ভুল হয়েও যায় সেক্ষেত্রে ঘষাঘষি না করে একটানে কেটে পুণরায় লিখতে হবে। কোনোভাবেই ওভার রাইটিং করা উচিত নয়। উত্তরপত্রে ওভার রাইটিং দেখলে পরীক্ষক পরীক্ষার্থী সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। যা তোমাদের উত্তরপত্রে নাম্বার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

îক্রমিক উল্লেখ করা: উত্তরপত্রে উত্তর লেখার সময় যে বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে ক্রমিক উল্লেখ করা।  কারণ সব প্রশ্নের উত্তর সুন্দর করে লিখেও ক্রমিক উল্লেখ না করলে পরীক্ষকের  বোঝতে অসুবিধে হতে পারে। হয়তো পরীক্ষক একটু খেয়াল করে দেখলে কোন ক্রমিকের উত্তর তা  বোঝতে পারেন কিন্তু না বোঝলে বিরক্তও বোধ করতে পারেন। আবার যেহেতু এটা পরীক্ষার্থীর ভুল সেক্ষেত্রে পরীক্ষক উত্তরপত্রে কোনো নম্বর নাও দিতে পারেন। তখন তোমার সব শ্রম, সাধনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। 

îঅপ্রয়োজনীয়তা বর্জন: কিছু বিষয় উত্তরপত্রে লিখে সময় নষ্ট করার প্রবণতা তোমাদের মধ্যে দেখা যায়। যেহেতু সময়ের প্রতি তোমাদের যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে সুতরাং সবসময় খেয়াল রাখবে কীভাবে সময় অপচয় রোধ করা যায়। ধরি, ১ নং ক্রমিকে ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিবার - ১ নং প্রশ্নের উত্তর (ক), ১ নং প্রশ্নের উত্তর (খ)... প্রয়োজন নেই। প্রথমে একবার লিখে পরে ক, খ, গ এভাবে লিখলেই চলবে।

îসৌন্দর্য্যের প্রকাশ: প্রতিটি বিষয় লিখে প্রকাশ করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা বাঞ্চনীয়। সেক্ষেত্রে মার্জিন ঠিক রেখে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে লিখা শুরু করা, নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রেখে লিখাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলে তা পরীক্ষকের কাছে দৃষ্টিনন্দন হয়। পাশাপাশি তোমাদের নিজস্ব মনো সৌন্দর্য্যের ও প্রকাশ ঘটে।

îপ্রশ্ন বোঝে উত্তর প্রদান: অসতর্কতার সাথে প্রশ্ন পড়ে কী উত্তর চাওয়া হয়েছে তা বোঝে উত্তর দেয়া জরুরি। কারণ প্রশ্নের সাথে উত্তরের কোনো সামঞ্জস্য না থাকলে লেখাটাই অরণ্যে রোদন হয়ে যাবে। সব সম্ভব, প্রয়োজন একটু আত্মবিশ্বাস। তাছাড়া বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে বর্ণনা সীমাবদ্ধ রাখা বাঞ্চনীয়। অযথা অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় না এনে প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা দরকার।

সবশেষে আবার পড়ে দেখা: লিখা শেষ করে অবশ্যই পুণরায় পড়ে দেখতে হবে।  এতে করে অনেক ভুল ধরা পড়ে এবং তা শুধরে নেয়ার সুযোগ থাকে। আর এই জন্য প্রয়োজন আমাদের হাতে বিভাজন করে রেখে দেয়া ১০ মিনিট।   

পরিশেষে, তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ কামনা করি সবাই ভালো থেকো, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ভালো পরীক্ষা দাও। সবার প্রতি রইলো শুভকামনা।