রাস্তার এক পাশে ফুটপাত দখল করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে। অন্যপাশ দখল ফার্নিচারের দোকানের সরঞ্জামের কারণে। কাওরান বাজার মোড় থেকে বসুন্ধরা শপিংমলের দিকে যাওয়ার পান্থপথের দৈনন্দিন চিত্র এটি। ফুটপাতে এসব দোকান ও দোকানের সরঞ্জাম দিয়ে দখলের কারণে প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে মানুষ কেনাকাটা করতে আসায় ও এই এলাকার বাসিন্দাদের কারণে রাস্তায় প্রায়ই গাড়ির ভিড় লেগে থাকে। এর ওপর রাস্তার দুই পাশে এমন দখলের কারণে ভিড় আরো বেড়ে যায়। অন্যদিকে বসুন্ধরা সিটির অপর পাশে একটি ছোটো রাস্তা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সেখানে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসেছেন অনেকে।
রাস্তায় এসব দোকানের জন্য দৈনিক কত টাকা দিতে হয়, এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক দোকানদার জানান, ‘দৈনিক ২০০ টাকা দিতে হয়। এই জন্য বসতে পারি।’ কাকে দেন, এটা বলার পর আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বসুন্ধরা শপিংমলের দিকে যাওয়ার সময় সারি সারি ফার্নিচারের দোকানের সরঞ্জাম ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়েছে। যার কারণে ফুটপাতের বেশির ভাগ জায়গায় দখল এসব ফার্নিচারের কারণে।
আবার দোকানের সামনে রেখেই এসব ফার্নিচারের কাজ করেন মিস্ত্রিরা। ফলে এ পথে হাঁটার সময় পথচারীদের শরীরেও মাঝে মধ্যে ধাক্কা লাগে। ফার্নিচারের দোকানগুলো ফুটপাত এমনভাবে ব্যবহার করছে যেন এই ফুটপাত দোকানেরই অংশ। আবার এসব দোকানের মালামাল বহন করার জন্য ভ্যানগাড়িও এখানে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ঐ এলাকায় মূল সড়ক ও ফুটপাতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের আশেপাশের ফুটপাতও দখল বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে। যেখানে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন অনেকেই। আর যারা ফুটপাত ব্যবহার করে তাদের পড়তে হয়ে ভোগান্তিতে। জানা যায়, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানের জন্য বিভিন্ন পরিমাণে চাঁদা গুনতে হয় দোকানিদের। এর একটি অংশ রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটেও যায় বলে তারা জানায়। টাকা ছাড়া এখানে বসা সম্ভব না বলেও জানান অনেকে।
এ পথে যাতায়াতকারী ওমর ফারুক নামে এক পথচারী বলেন, এমনিতেই সবসময় এ রাস্তায় জ্যাম লেগে থাকে, তার ওপর দুই পাশের ফুটপাত দখল হয়ে আছে। আমরা পথচারীরা যে হাঁটব সেই রাস্তাটুকুও নেই, ব্যবসা খুলে বসছে অনেকে। এর প্রতিকার দরকার। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এ ফুটপাত আমরা খালি করলে আবারও এখানে এসে বসে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা বলেছি। তারাও দেখবে। আর আমরাও এটি আবারও কীভাবে খালি করা যায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
