মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আলোচনায় যারা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৮

দেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হলো ঢাকা মহানগর। রাজধানীতে সংগঠন শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নির্দেশ দিয়েছেন। সে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠনে দেখা যেতে পারে নতুন-পুরোনোদের সমন্বয়। তবে এই দুই ইউনিটের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে যারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়, তারা বাদ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, সব আন্দোলন-সংগ্রমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতীয় নির্বাচনসহ দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র ঠেকাতে এই দুই ইউনিটের নেতাকর্মীদের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। তাই এবার নেতৃত্বে আসতে পারেন ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতারা। এরই মধ্যে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী নেতাদের তালিকা তৈরি করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কাউন্সিলের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একটি চ্যালেঞ্জিং কমিটি উপহার দিতে চান। তাই সম্ভাব্য নেতাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, অনুপ্রবেশকারী, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে পদায়নসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা এবার পদ পাবেন না।

এদিকে কাউন্সিল ঘিরে নতুন ও পুরোনো নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগরে কাউন্সিল ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন পদপ্রত্যাশীরা। দীর্ঘদিন থেকে বিতাড়িত নেতারা প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন। লবিং করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। অপরদিকে বর্তমান কমিটির নেতারা স্বপদে বহাল থাকা কিংবা পদোন্নতি পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তত্পরতা। দলীয় কর্মসূচিতে অন্যদের মতো তাদের উপস্থিতিও চোখের পড়ার মতো। কাউন্সিল সামনে রেখে নেতাকর্মীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারাও। মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে এবার পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে এ কে এম রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাদেক খান দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহে আলম মুরাদ দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রমাণ দিতে পারলেও সভাপতি অসুস্থতার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে তারা আসন্ন সম্মেলনে স্বপদে থাকতে চান। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা হলেন, হাবিব হাসান, শেখ বজলুর রহমান, আজিজুল হক রানা প্রমুখ। দক্ষিণের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা হলেন, হুমায়ুন কবীর, আখতার হোসেন, ওমর বিন আজিজ তামিম প্রমুখ।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এর তিন বছর পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণ, ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপরই ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।