পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় বুধবার রাত অভিযানকালে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জেএমবির দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার দুই জেএমবি সদস্যের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা।
তারা হলেন- আবদুল্লাহ আবু সাঈদ (৩৫)। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার আবদুর রহিমের ছেলে। মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৩) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বুচিডং এলাকার মৃত আবদুল নবীর ছেলে। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৭ এর ডিএডি দুলাল হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তাদের পটিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসযোগে চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার ইউনিয়ন ব্যাংক পটিয়া শাখার সামনে রাস্তার উপর গাড়িটি তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এসময় তারা চেকপোস্ট দেখমাত্রই বাসটি থেকে দুইজন যাত্রী নেমে অন্যপথে কৌশলে দৌড়ে পালানোর সময় র্যাব তাদের আটক করে।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, ‘তারা জেএমবি দুই সক্রিয় সদস্য। নিজেদের জিহাদের জন্য প্রস্তুত করতে এবং অন্যদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জঙ্গি উস্কানীমূলক বিভিন্ন জিহাদি বই, লিফলেট প্রচার করার জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় যাচ্ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন হাদিস ও কোরআনের আয়াতের উদ্বৃতি অপব্যাখ্যা করে জঙ্গি ও জিহাদি চেতনায় অংশগ্রহণের জন্য ধর্মপ্রাণ উঠতি বয়সী যুবক ও নিরীহ জনসাধারণের মধ্যে জঙ্গি উস্কানীমূলক প্রচারসহ বিভিন্ন জিহাদি বই ও লিফলেট প্রচার করার জন্য নিজ হেফাজতে রেখে জঙ্গি তৎপরতাকে উস্কে দেয়ার জন্য কাজ করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘র্যাব-৭ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা জেএমবি সদস্যসহ দুইজনকে আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গি উস্কানীমূলক বিভিন্ন জিহাদি বই, লিফলেট উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।’
ইত্তেফাক/আরকেজি
