ভাবনা খুলে দিল ‘সাফল্যের অদৃশ্য সিঁড়ি’

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৫

আবু রেজা মো. ইয়াহিয়ার ‘সাফল্যের অদৃশ্য সিঁড়ি’ বইটি মূলত এমন কিছু বর্ণমালার বিন্যাস, যা মনে সাহস জোগায়, খুলে দেয় মনের জানালা, উন্মোচিত করে নতুন ভোরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। বইটির প্রথম সংস্করণ এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে এখন দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ চলছে। চমত্কার মলাট, আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ ও সুন্দর কাগজে ছাপা ৬৪ পৃষ্ঠার এ এমন এক বই, যার বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে একটা মানবিক পৃথিবীর প্রত্যাশা ও ব্যক্তির সুখ-সাফল্য-প্রশান্তিকে উপলক্ষ করে। এটির গন্তব্যই হলো একদল স্বপ্নবাজ মানুষের অর্থহীন দুঃখবোধ থেকে মুক্তি ও তাদের রাগকে জয় করে, নিজেকে জানার মাধ্যমে সফল হবার পথনির্দেশ।

সমজাতীয় বেশকিছু বইয়ের তর্জমা বাজারে আছে। এগুলোর বেশির ভাগই বিদেশি গবেষক, ঔপন্যাসিক, মনঃস্তত্ববিদ ও পেশাজীবিদের লেখা। অর্থাত্ মানসগঠন, ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি, মনঃস্তাত্ত্বিক শক্তি ও বড়ো হওয়ার কিংবা মানুষের মতো মানুষ হওয়ার প্রেরণাদায়ী বইগুলো তর্জমা হয়ে আমাদের পাঠকদের হাতে কমবেশি পৌঁছেছে। কিন্তু এগুলোর আদর্শগত ভিত্তিতে রয়েছে মানুষের বস্তুগত বা জাগতিক উন্নতির পথনির্দেশ। আবু রেজা মো. ইয়াহিয়ার ‘সাফল্যের অদৃশ্য সিঁড়ি’-তে আছে বস্তুগত উন্নতির সঙ্গে নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলার গল্পটাও।

সমজাতীয় বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়গুলো পাঠককে নিমেষেই আত্মশুদ্ধির একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তরে নিয়ে যাবে চোখের পলকে। লেখকের রচনাক্ষেত্র যন্ত্রযুগ এবং পাঠকশ্রেণি অভিন্ন মানবসত্তা। সাবলীল উপমা ও সাহিত্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি মানব মনে ক্রমাগত স্বপ্নের জাল বুনে গিয়েছেন। লেখক শিরোনাম ও শব্দচয়নে সাহিত্যের একটা লক্ষণীয় মুন্সিপনার পরিচয় দিতে সফল হয়েছেন, যা আনিবার্যতঃই তার পাঠকপ্রিয়তাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। বইটিতে সাজানো ২৮টি খণ্ডরচনার প্রতিটিই বিস্তারিত আলোচনা এবং গ্রন্থরূপ দাবি করে। ‘প্রতিযোগিতা নিজের সাথে’ শিরোনামে তিনি যথার্থই লিখেছেন—‘এ প্রতিযোগিতা আজকের আমি’র সাথে আগামীকালের আমি’র।’ ‘খুলে দাও মনের দুয়ার’ স্তবকে তিনি লিখেছেন, ‘মন খারাপের কালো চশমাটা খুলে একবার মনের জানালা দিয়ে তাকান আপনার চারদিকটা। দেখুন। ভালোবাসার চোখ দিয়ে দেখুন, ঐ তো রোদের জামা পরে শাহবাগ মোড় পার হয়ে হেঁটে যাচ্ছে উদোম কিশোর। তার হাতে কী সুন্দর সুখের মালা! মাথার উপর দিয়ে ঐ তো উড়ে যাচ্ছে নাম না জানা গায়ক পাখিদের দল! ঐ তো অগোচরে ফুটে আছে নয়নতারা ফুল! জীবনটা সুন্দর। ভোগ নয়। উপভোগ করুন। দেখবেন, দুঃখরা উড়ে যাবে দূরের দেশে।’

শেষ শিরোনাম ‘অপ্রকাশের ভার’। পুরো স্তবকটাই অসাধারণ সাহিত্যগুণে সমৃদ্ধ এবং অভিনব মৌলিকতায় ঐশ্বর্যমণ্ডিত। এক জায়গায় লেখকের সুচারু অবতারণা—‘আমাদের চারপাশে যা ঘটছে, যা দেখছি প্রতিনিয়ত, তা আমাকে ভাবায়। ভীষণ ভাবায়। তার কিছু কিছু লিখি; বাকিটা থেকে যায় অপ্রকাশিত। কিন্তু অপ্রকাশিত বলেই তাকে বাতিল করে দেওয়া যায় না। তারও আবেদন আছে। তীব্র আবেদন। তা সত্ত্বেও প্রকাশ করতে পারি না।’ একই রচনায় তিনি বলেছেন—‘এক ভীষণ বাস্তবতার মধ্যে ডুবে আছি আমরা। কিন্তু কিসের জন্য? কিসের জন্য এই ব্যস্ততা, এই অবিরাম ছুটে চলা? ভেবে দেখেছি কি কখনো?’

বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে সাফল্যের অদৃশ্য সিঁড়িকে আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া দৃশ্যমান করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আমি একটি অনিবার্য-পাঠ্য হিসেবে ‘সাফল্যের অদৃশ্য সিঁড়ি’ বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।