বাফুফের নির্বাচনে কাউন্সিলরদের পোয়াবারো

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৩

বাফুফের নির্বাচন আগামী এপ্রিলে। মূল আকর্ষণ সভাপতির পদে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফুটবল অঙ্গন সরগরম হতে যাচ্ছে। প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফ তরফদার রুহুল আমিন এরই মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাফুফের কাউন্সলরগণ ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নির্বাচন করছেন একজন তার পেছনে ছুটছেন ভোটাররা। পাঁচ তারকা হোটেলে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে ভোটারদের। এপ্রিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে সভাপতি প্রার্থীরা ব্যাপক পরিকল্পনা করছেন। যারা ঢাকায় আসতে সময় পান না, সেই সব ভোটার অনেকই এখন ঢাকায়। এক পক্ষ একটা কার্যক্রম ঘোষণা দিলে অন্য পক্ষও সঙ্গে সঙ্গে পালটা কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে। ভোটারদের খুশি করতে গিয়ে নানা পথও বেছে নিতে হচ্ছে। জেলাগুলোকে এরই মধ্যে অনুদান দেওয়া হয়েছে। নানাভাবে, নানা পন্থায় জেলাগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। শুধু জেলাই নয়। ঢাকার ক্লাবগুলোর কাছেও যাচ্ছে অনুদান। এক পক্ষের ঘোষণা পেয়ে আরেক পক্ষের দিকে ছুটছেন ভোটাররা।

বাফুফের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই এমন জমজমাট আয়োজন হয়। ভোটাররা দুই পক্ষ হতেই আর্থিক লাভবান হন। নির্বাচন আসার আগে জেলা বিভাগ এবং ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়ার কথা শোনা যায় আর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অনুদান শব্দটির পরিবর্তন ঘটে। অন্যভাবে সুবিধা দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যায়। যারা অনুদান নিতে চান না তারাও একটা সময় প্রলোভিত হয়ে অনুদান নামের সুবিধা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। সবাই অর্থের বিনিময়ে ভোট দেন একথাও সত্য নয়। সবাই এক রকমও না। অনেক ভোটার সুযোগ সুবিধা না গ্রহণ করেও তারা ভোট দেন। ফুটবলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। আর কিছু ভোটার আছেন যারা বাফুফের নির্বাচনের অক্ষোয় থাকেন এই সময়টায় নানা উপঢৌকন পেয়ে রীতিমত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হন। কাকে দিয়ে দেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে তা ভাবার ফুরসত নেই। কোন ব্যক্তিটি ফুটবলের নাম ভাঙ্গিয়ে মসনদে বসতে চান কিংবা কাকে দিয়ে ফুটবল উন্নতির সুযোগ নেই সেটা ভাবার ব্যক্তির সংখ্যা কম। নির্বাচন মানেই যেন দুইহাত ভরে পাওয়া। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাফুফের বর্তমান কমিটির একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে আছেন আবার তরফদার রুহুল আমিনের সঙ্গেও আছেন। দুই দিকে তাল রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে এপ্রিলের নির্বাচনে। বাফুফের নির্বাচনে ২১ পদে লড়াই হবে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট নয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ফুটবলে উন্নতি হয় এমন নির্বাচনই হোক।