(পূর্ব প্রকাশের পর)
হজের প্রস্তুতি পর্বে নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। নিয়মিত নামাজ আদায় করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে লম্বা ঝাঁকড়া চুলকে ছেঁটে অনেকটা কমিয়ে ফেলি। ওমরাহ পালন শেষে আরো কিছুটা ছেঁটে ফেলব এবং বড়ো হজের সময়ে, ১০ জিলহজ কঙ্কর নিক্ষেপের পর নিশ্চিত পন্থায় কোরবানি দিয়ে রসুলুল্লাহ (স)-এর আদর্শের অনুসরণে মাথামুণ্ডন করে ন্যাড়া (হলক) করব বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তবে চুল ছোটো করলেও চলত। আমি প্রস্তুতি পর্বেই, কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি করা ও চুলকাটার মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করার প্রতি আস্থাশীল থাকি। কারণ ন্যাড়া বা হলক করা ওয়াজিব। তবে কোরবানির পর মাথা মুণ্ডন করে প্রায় ছয়-সাত দিন প্রচণ্ড জ্বরে ভুগি। পা ফুলে যায়, গা ব্যথা, চারদিক শূন্যতা অনুভব করি। যে ঝাঁকড়া চুল আমার ব্রান্ড ছিল, সেটি মুণ্ডন করার পর সতীর্থ হাজি ও দেশে-বিদেশের আমার ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আমি পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে হজে যাওয়ার প্রাক্কালে আল্লাহ আমাকে একটি বড়ো পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। আল্লাহ আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা করেন। অর্থাত্ আমার বড়ো ভাই ফকির জাহাঙ্গীর দেশের বাড়িতে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমি সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরে তার ছেলে পলাশকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দিই। আমি, আমার ছোটো ভাই ফকির সিরাজ আগেই বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে অবস্থান নিই এবং উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়াকে অবগত করি। ঐদিন হাসপাতালে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোমাত্রই কার্ডিয়াক প্রধান চিকিত্সা প্রদান শুরু করেন এবং পরের দিন উন্নত পদ্ধতিতে তার হার্টে কয়েকটি রিং পরিয়ে সুস্থ করে তোলেন।
আমরা ছিলাম পাঁচ ভাই এবং আট বোন। এর মধ্যে এখনো আমরা তিন ভাই এবং পাঁচ বোন বেঁচে আছি। তাই হজে যাওয়ার প্রাক্কালে বড় ভাইয়ের চিকিত্সা ও তার সুস্থ হওয়া ছিল আমার কাছে বড় ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে বড় ভাইকে দেখতে আসা আত্মীয়-স্বজন ও শুভানাধ্যায়ীদের কাছ থেকে আমার বিদায় নেয়ারও একটা সুযোগ ঘটে। এর বাইরে যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে টেলিফোনে কথা বলে বিদায় নেই। বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে কাজল ভাই তথা সদ্য প্রয়াত ফকির মোখলেছুর রহমানের কথা। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে যার খ্যাতি ছিল সর্বত্র। চাকরি করতেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী পুনর্বাসন অধিদপ্তরে। জীবনের শেষ দিকে আল্লাহ রাসূলের পথে ও বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল ছিলেন। সবার কাছ থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। তারপর পরপারে পাড়ি জমান। (চলবে)
lলেখক :জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী
