পাবনার বেড়া উপজেলায় বড়শিলা-নলভাঙ্গা-খাকছাড়া সড়কটি দিয়ে শুধু পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া যানবাহন চলাচলের কোনো অবস্থাতেই নেই। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। বিলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়কটির মাধ্যমে চারপাশের বেড়া, চাকলা, নলভাঙা, বড়শিলা, খাকছাড়া, দমদমা, পাঁচুরিয়া, তাঁরাপুরসহ দশ গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বেড়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ২০০৯ সালে সড়কটি নির্মাণ করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি সরু ও নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। যে কারণে বর্ষা এলে সড়কটির অনেক জায়গা পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভেঙে যায়। কিন্তু এবারের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সড়কের কয়েকটি স্থান বিলীন হয়ে গেছে। এসব স্থানে কোনো যানবাহনের পক্ষে যাতায়াত করা সম্ভব না। এরপরও হঠাত্ কোনো যানবাহন এই সড়কে ঢুকে পড়লে প্রচণ্ড দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। নির্মাণের পরে সংস্কার হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটি সিএনজি রাস্তার ভেঙে যাওয়া অংশে আসলে সেটাকে তিন জন মিলে ঠেলে তুলছেন। সড়কের ব্যাপারে জানতে চাইলে চালক সবুজ রানা বলেন, ‘আমি জানতাম এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটু কষ্ট হবে কিন্তু বেড়া হাসপাতাল থেকে একটা রোগী আনার জন্য সময় বাঁচাতে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যেতে পারছি না, কিছুদূর গিয়ে ফিরে আসতেই জীবন শেষ। এ রাস্তা দিয়ে এসেই চরম বিপদে পড়ে গেছি।’
খাকছাড়া গ্রামের বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, সড়কটি চালু হওয়ার পর আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেড়ে গিয়েছিল। সড়কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় যানবাহন তো দূরের কথা শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে আসারও উপায় নেই ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
এলজিইডির বেড়া প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস বলেন, সড়কটির মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
