বাংলাদেশের দুর্দিন

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৬

দুই দলের মানের পার্থক্যের একটা ছবি তো আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে স্পষ্ট আছে। মানসম্পন্ন বোলিং কী এবং এই বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং করা কতটা কঠিন—গতকাল ইন্দোরে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশের ইনিংসটা যতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, ততক্ষণই যেন ‘এই বুঝি আউট হয়ে গেল’ এমন আবহ বিরাজ করছিল ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে।

দিনভর চারটি স্লিপ নিয়ে ফিল্ডিং করেছে ভারত। উইকেট মৃত্যুকূপ না হলেও রান তুলতে গিয়ে সংগ্রাম করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। সকালের ছয়-সাত ওভার ছাড়া ভারতীয় বোলাররা শুধু নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বোলিং করেছেন। তাতেই মনের বাঘের ভয়ে কুপোকাত হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যুগের শুরুতেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ। গতকাল প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় মুমিনুল হকের দল। ইনিংসটা স্থায়ী হয়েছিল ৫৮.৩ ওভার।

বোলিংয়েও স্বাগতিকদের চেপে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ। আবার ক্যাচ মিসও হয়েছে। দিনের শেষ দিকে দ্বিতীয় স্পেলে এসেই তৃতীয় বলে আবু জায়েদ রাহী উইকেট পেতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ৩২ রানে থাকা মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ক্যাচ ফেলেন ইমরুল। গতকাল দিনের শেষ সেশনে ২৬ ওভার ব্যাটিং করে এক উইকেটে ৮৬ রান তুলেছে ভারত। চেতেশ্বর পূজারা ৪৩, আগারওয়াল ৩৭ রানে ব্যাট করছেন।

ব্যাটিংয়ে নেমে অষ্টম ওভারেই রোহিত শর্মাকে (৬) হারায় ভারত। রাহীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রোহিত। তারপর রাহী ছাড়া আর কেউ পূজারা-আগারওয়ালকে টলাতে পারেননি। এবাদত, তাইজুলের নির্বিষ বোলিং মিলে গতকাল ইন্দোরে দুর্দিনই কেটেছে বাংলাদেশের। প্রচুর হাফ ভলি দিয়েছেন, লাইন-লেন্থেরও খোঁজ ছিল না তাদের বোলিংয়ে।

এর আগে সকালে টস জয়ী বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন নতুন বলে কাঁপিয়েছেন ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদব। কম্পমান অবস্থা কাটানোর আগেই উমেশের করা ষষ্ঠ ওভারে ইমরুল কায়েস (৬) স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন। পরের ওভারে ইশান্তের শিকার হন সাদমান (৬)। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের গুরুভার নিয়ে উইকেটে আসা মিঠুন শুরু থেকে নড়বড়ে ছিলেন। ১৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। ৩১ রানে তিন উইকেট পতনের পর ইনিংস বিনির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল ও মুশফিক। তিন উইকেটে ৬৩ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।

দুইবার জীবন পাওয়া মুশফিককে নিয়ে লাঞ্চের পরও এগিয়ে যাাচ্ছিলেন মুমিনুল। ৬৮ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। অশ্বিনের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন মুমিনুল। তিনি ৩৭ রান করেন। সুইপ করতে গিয়ে অশ্বিনের বলে বোল্ড হওয়া মাহমুদউল্লাহ ১০ রান করেন। পাঁচ উইকেটেই চা বিরতিতে যেতে পারত বাংলাদেশ।

কিন্তু চা বিরতির আগে শামির জোড়া শিকারে পথ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৫৪তম ওভারের পঞ্চম বলে শামির দুরন্ত ইনসুইংয়ে মুশফিক বোল্ড হন। পরের বলেই মিরাজ (০) এলবির ফাঁদে পড়েন। মুশফিক ৪৩ রান করেন। চা বিরতির পর প্রথম বলেই লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ দেন। তিনি ২১ রান করেন। ১৪০ রানের মাথায় তিন উইকেটের পতন হয়। শামির হঠাত্ ঝড়ে ১০ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ দিকে তাইজুল (১) রান আউট, উমেশের (২) বলে এবাদত বোল্ড হন। আবু জায়েদ রাহী সাত রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে শামি তিনটি, অশ্বিন-উমেশ-ইশান্ত দুটি করে উইকেট নেন।