জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ পদটি শূন্য হওয়ায় চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে বে-কায়দায় পড়েছেন রোগীরা। এছাড়া অন্যান্য চিকিত্সক ও শয্যা সংকট রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা থেকে ১৯৯৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা হয়। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় একই জনবল দিয়ে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ১০০ বেডের জনবল দিয়ে ১৫০ বেডের এই হাসপাতালটি পরিচালিত হলেও চিকিত্সকের ৪৫টি পদের মধ্যে ২২টি পদই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ছাড়া শয্যা সংকটে রোগীদের বেডের বদলে রাখা হচ্ছে মেঝেতে।
হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, এক সময়ের দেশের মধ্যে উন্নত পরিবেশে চিকিত্সা সেবা প্রদানের জন্য প্রথম স্থান অধিকার করেছিল ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই আধুনিক জেলা হাসপাতালটি। জয়পুরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলার শত শত মানুষ প্রতিদিন চিকিত্সা নিতে ভিড় জমান জেলার এই আধুনিক হাসপাতালে।
জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিলুফা জহুর লিলি বলেন, ডাক্তার, জনবল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকটের কারণে চিকিত্সা নিতে আসা সহায় সম্বলহীন সাধারণ রোগীরা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে খোঁজ নিয়ে যায়, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া) ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম ৩০ অক্টোবর থেকে অবসরে যাওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে মেজর অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
ধারকী গ্রামের মিনু আরা, পাহাড়পুর এলাকার নাজমা বেগম জরায়ুর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও অ্যানেসথেশিয়া চিকিত্সক না থাকায় অপারেশন করতে পারেননি। খাসবাট্টা গ্রামের আকাশ হোসেন, রোয়ার গ্রামের রিফাত হোসেনও অপারেশন করতে না পেরে ফিরে যান।
জেলা আধুনিক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মফিউর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদটি শূন্য হওয়ায় মেজর অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না।
জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল হোসেন জানান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া) পদসহ অন্যান্য শূন্য পদে দ্রুত চিকিত্সক পদায়ন চেয়ে কয়েক দফায় তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।
