রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীতে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে রোগীদের বিছানায়। আগামী বর্ষায় দুরবস্থা বেড়ে স্বাভাবিক চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। তাছাড়া হাসপাতালে পয়ঃনিষ্কাশন এবং সুপেয় পানির সংকট লেগেই আছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে ছাদের বৈদ্যুতিক পাখাগুলো খুলে নেয়া হয়েছে। জরুরি বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় চিকিত্সক ও চিকিত্সা উপকরণের সংকট লেগেই আছে। হাসপাতাল ভবনের সংস্কারসহ সমস্যা নিরসনে সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে। একটি জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরিপূর্ণ যন্ত্রপাতির অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ১৪ বছরেও চালু করা যায়নি। চিকিত্সা উপকরণগুলো অব্যবহূত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩০ শয্যার হাসপাতাল ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন ঘটেনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ৩০ শয্যার পুরনো ভবনে মহিলা রোগীদের জন্য নির্ধারিত। ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। রোগী এবং চিকিত্সকের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই। আগত রোগী অপেক্ষা হাসপাতালের ইনডোরে বেডের সংকট। মেঝেয় বিছানা করে রোগীদের রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। ২০ শয্যার নতুন ভবনে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা আছে পুরুষ রোগীদের জন্য। এখানেও স্বাভাবিক পরিবেশ নাই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো প্রয়োজনীয় চিকিত্সক এবং চিকিত্সা উপকরণ সংকটসহ সার্বিক দুরবস্থার বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা উত্থাপন করা হয়। সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়। সংবাদপত্রে হাসপাতালের দুরবস্থার বিষয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইফতেখার হোসেন জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলোও খুবই জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। পানি, বিদ্যুত্ সংকটসহ নানা দুরবস্থায় স্টাফদের বসবাস করতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান জানান, জরাজীর্ণ পুরনো হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উভয় ভবনের পুনঃনির্মাণ কিংবা সংস্কার ব্যবস্থা জরুরি। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও হাসপাতালে সার্জারি এবং এনেসথেশিয়া কনসালটেন্ট নেই। এনেসথেশিয়া মেশিন আছে কিন্তু তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় গ্যাস ব্যবস্থা নাই। অপারেশন কক্ষে জীবাণুমুক্তকরণ অটোগ্ল্যাব মেশিন নাই। যার কারণে অপারেশন চিকিত্সা হাসপাতালে চালু করা যায়নি। টেকনিশিয়ান না থাকায় হাসপাতালের এক্সরে মেশিন চলে না। হাসপাতালে আটজন কনসালটেন্টের স্থলে মাত্র চারজন আছেন। তাও দু’জনকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন কাজ করতে হয়। ১৩ জন মেডিক্যাল অফিসারের স্থলে আছেন মাত্র পাঁচজন। তিনি জানান, হাসপাতালের আউটডোরে দৈনিক চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ রোগী আসে। ইনডোরে সবসময় ৫৫ জনেরও বেশি রোগী থাকে। জরুরিভিত্তিতে হাসপাতাল ভবনের সংস্কার ব্যবস্থা না হলেও সামনের বর্ষা মৌসুমে হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।
