ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকার লালবাগে ঢাকেশ্বরী এলাকায় ৭৫ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত শহিদ হাজি আবদুল আলীম খেলার মাঠ নতুন রূপ পেয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে শুরু হওয়া পার্কের উন্নয়নকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ শনিবার উদ্বোধনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জন্য মাঠটি উন্মুক্ত করা হবে।
ডিএসসিসি বলছে, মাঠটি ‘বিশ্বমানের’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় এর আধুনিকায়নে। পার্কে অতিবৃষ্টি হলেও পানি জমবে না। পার্কের ওয়াকওয়ের (হাঁটার রাস্তা) নিচে তৈরি করা হয়েছে জলাধার। এতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন পানি ধরে রাখা যাবে। ফিল্টারিং করে সেই পানি পান করা যাবে। আর রাতের বেলায় আলোর ঝলকানিতে মোড়ানো থাকবে পুরো মাঠ। মাঠের শিশু কর্নারে ফুটবল এবং নেটে ক্রিকেট খেলার প্র্যাকটিস স্পেস, হাঁটার জন্য ২৫০ মিটার ওয়াকওয়ে, ওয়াকওয়ের পাশে বসার ব্যবস্থা, শিশুদের আধুনিক খেলনাসামগ্রী দিয়ে তৈরি শিশু কর্নার, জিমনেসিয়াম, আধুনিক টয়লেট, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি, ওয়াটার ফিল্টার, ফ্রি ওয়াইফাই জোন, সিসি ক্যামেরা, ডাস্টবিন, ফলের গাছ, প্রজাপতি আকৃষ্ট হয় এমন ফুলের গাছ রয়েছে। ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মাঠের কোনায় দুই তলাবিশিষ্ট একটি ছোটো ঘর রয়েছে। এর নিচতলায় জিম ও লাইব্রেরি এবং ওপরের তলায় কফি হাউস ও একটি উন্মুক্ত ফুলের বাগান রয়েছে। পূর্বপাশের মসজিদ সংলগ্ন শিশু কর্নারে রয়েছে শিশুদের জন্য দোলনা। ওয়াকওয়ের এক পাশে সাইকেল চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
কিছুদিন আগেও পার্কের চারপাশে ঝুপড়ি ঘর, দোকান ও ময়লার স্তূপ ছিল। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে মাঠের অস্তিত্বই বিলীন হচ্ছিল। সেখানে নেশাখোর, বখাটে আর ছিনতাইকারীদের আড্ডাখানা ছিল। বৃষ্টি হলেই ডুবে যেত মাঠ। কিন্তু এখন বদলে গেছে সেই মাঠ।
স্থানীয় বাসিন্দা এক ব্যক্তি জানান, পার্কটি আধুনিকায়ন দেখে সত্যি ভালো লাগছে। এটি উদ্বোধন হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা এতে খেলাধুলা করতে পারবে।
মাঠটির বিষয়ে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, “পুরান ঢাকায় উন্মুক্ত জায়গার অভাব রয়েছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর ‘জল-সবুজে ঢাকা’ নামে একটি প্রকল্প নিয়েছি। প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের ৩১টি মাঠ ও পার্ক বিশ্বমানের করার জন্য কাজ শুরু করা হয়। এরই মধ্যে অনেক মাঠের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাঠটিকে বিশ্বমানের করে তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি হলেও পানি জমবে না।’’
