মায়ের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সারাহাত সালমা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৫

১৯৮৯ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন সারাহাত সালমা চৌধুরী। ঐ বছরের ২৫ জুলাই স্কুলের ছুটি শেষে ছিলেন মায়ের অপেক্ষায়। কিন্তু মাকে আর পাননি, পেয়েছিলেন নিথর দেহ। সেদিন স্কুল থেকে কয়েকগজ দূরে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় তার মা সগিরা মোর্শেদকে। তখন সালমার বয়স ছিল আট বছর। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে শিক্ষকতা করছেন। তিন দশক পর জানতে পারলেন আপন চাচা-চাচি ছিলেন তার প্রিয় মা কে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।

এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া থেকে টেলিফোনে ইত্তেফাককে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সালমা বলেন, মানুষ এত হিংস্র ও নিষ্ঠুর হতে পারে ভাবলেই ঘৃণায় গা গুলিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমার মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। হত্যা করে খুনিরা ৩০ বছর ধরে মুক্ত জীবন-যাপন করছিল। তিনি বলেন, আড়াই যুগ পর খুনিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখন কারাগারে আছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। হত্যাকারীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। তারা দেখুক অন্যায় করে মানুষকে কিছুদিন ধোঁকা দেওয়া সম্ভব হলেও সেটি একদিন না একদিন ফাঁস হয়ে যায়।

সালমা বলেন, আমার মা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। চাকরি করতেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসে। মা ছিলেন সবার প্রিয়মুখ। আমার দাদি মাকে অনেক ভালোবাসতেন। এগুলোই শাহীন চাচির ভেতরে হিংসা ও হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়। ফলে নানা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চাচি মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। মা এগুলো এড়িয়ে যেতেন। এত কিছুর পরেও মা কখনো চাচিকে ছোটো করেননি। সবসময় সম্মান করতেন। সেই সম্মানের মূল্য যে তাকে ও আমাদের পরিবারকে এভাবে দিতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি।

ইত্তেফাককে সালমা আরো বলেন, রাজারবাগের বাড়ির দোতলায় আমরা থাকতাম। আর তৃতীয় তলায় হাসান চাচা ও মাহমুদা চাচি থাকতেন। আমাদের মাথার ওপরে যে মায়ের খুনিদের বসবাস ছিল সেটা আজ দেশবাসী জানল। ২৮ বছর এই হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ ছিল। বিচার পাব এই আশাই ছেড়েই দিয়েছিলাম। এখন তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আশা করছি দ্রুত ন্যায়বিচার পাব।

সালমা বলেন, আমরা তিন বোন। মাকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমাদের বয়স যথাক্রমে ৮ বছর, ৫ বছর ও ২ বছর ছিল। মা হারানোর পর চাচা-চাচি কখনোই আমাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাননি। সবসময় অবহেলা ও উপেক্ষো করে গেছেন। বাবাই আমাদেরকে মায়ের স্নেহে বড়ো করেছেন। বিদেশে পাঠিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।

প্রসঙ্গত সগিরা মোর্শেদের মেঝো মেয়ে সামিয়া সারওয়াত চৌধুরী অ্যাকাউন্টিং ও হিউম্যান রিসোর্সের ওপর এমবিএ ডিগ্রিধারী। তিনি তার বাবা সালাম চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশেই বসবাস করেন। ছোট মেয়ে সিফাত আদিয়া চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট অব ইকনোমিকসের ওপর পিএইচডি করছেন।