একদিন বিকালে চায়ের দোকানে বসে আছি। চায়ে একটা বিস্কুট ভিজিয়ে খাচ্ছি। এমন সময় অয়নদার আগমন। মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে আছে। জিজ্ঞাস করলাম, ‘কী খবর ভাই? বিয়েশাদি কি করবা না?’
‘আর বিয়ে? এ জন্মে বিয়ে করব না।’
কথাটা শুনে চমকে উঠলাম? মনে মনে ভাবলাম, ‘যে কিনা চাকরি পাওয়ার দুদিন পরেই পাত্রী চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়, সেই কিনা বলছে এই জন্মে বিয়ে করবে না?’ বিস্ময় নিয়ে বললাম, ‘কেন ভাই? আবার কিছু হয়েছে?’
‘না রে। অফিসে খুব চাপের মধ্যে আছি!’
‘কিসের চাপ?’
‘থাক সেসব কথা। যাই এখন। পরে কথা হবে।’
সেদিনের মতো অয়নদা বিদায় নিল। দুইদিন পরে সন্ধ্যায় আবারও অয়নদার সাথে দেখা। মুখ গোমড়া করে হেঁটে যাচ্ছিল। আমাকে দেখেই বলল, ‘ভাই, বড় বিপদে পড়ে গেছি।’
‘কী হলো আবার?’
‘সেদিন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম না পাত্রী চেয়ে?’
‘হ্যাঁ এক্সপেরিয়েন্সও চেয়েছিলে।’
‘হুম। কিন্তু তখন তো না বুঝেই দিয়ে ফেলেছি। এখন প্রতিদিন ৫/৭ জন করে বিধবা মহিলা আসে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। মা এত ঝামেলা সহ্য করত পারছে না। আজ বলে দিয়েছে, আরেকজন আসলেই তার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবে। কী করা যায় বল তো। বাঁচা আমাকে ভাই।’
‘ওহ। এই ব্যাপার। আচ্ছা শোনো, যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছ, সেই পত্রিকায় আরেকটি বিজ্ঞপ্তি দাও, অয়নের বিয়ে হয়ে গেছে, অযথা ডিস্টার্ব করবেন না।’
‘আচ্ছা ভাই। এখনিই যাচ্ছি পত্রিকা অফিস।’
এই বলে অয়নদা দ্রুত পায়ে চলতে লাগল পত্রিকা অফিসের দিকে।
পরের দিন সকাল বেলা অয়নদার ফোন। তাদের বাসায় যেতে বলল। গিয়ে দেখি আন্টি ঝাড়ু দিয়ে অয়নদাকে পেটাচ্ছেন আর বলছেন, ‘হতচ্ছাড়া, না জানিয়ে বিয়ে করা! আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।’
অয়নদার দিকে তাকিয়ে হাসি পেল। যদিও সেদিন আন্টিকে বুঝায়ে অয়নদাকে বাঁচাতে পেরেছিলাম। তবে অপেক্ষায় আছি, অয়নদা আবার কী না কী করে ফেলে!
রংপুর
