জনবল সংকটে পর্যাপ্ত চিকিত্সা পাচ্ছেন না শ্রমিক-কর্মচারীরা!

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩২

১৮৭০ সালে রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের চিকিত্সার জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটি তৈরি করা হয়। ৮২ শয্যার হাসপাতালটি বর্তমানে জনবল সংকটে ধুঁকছে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা পর্যাপ্ত চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ১৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭৪ জন। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পাঁচ জনের বিপরীতে আছেন একজন, মেট্রোন পদ শূন্য, ফার্মাসিস্ট আট জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিন জন, সিনিয়র নার্স সাত জনের বিপরীতে রয়েছেন এক জন, স্টোর কিপার পদ শূন্য, ইউডিএ পদে এক জনও নেই, স্টেনো টাইপিস্ট পদ শূন্য, স্যানিটারি পরিদর্শক এক জনও নেই, বাবুর্চি পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য, জুনিয়ার নার্স তিন জনের বিপরীতে রয়েছেন এক জন। এখানে পদ খালি রয়েছে ৭৮টি।

স্থানীয় রোগীদের ভিড়ে এক সময় সরগরম থাকত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। কিন্তু এখন ১২-১৫ জন রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসেন। আর ইনডোরে গড়ে ১০-১২ জন রোগী ভর্তি থাকে। ৮২ শয্যার এ হাসপাতালে কোনো কোনো সময় এক থেকে দুই জন রোগী ভর্তি থাকেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্স চালক দুই জনের এক জনও নেই, আয়া ও সুইপার পদে ৬৩ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন, খালাসি পাঁচ জনের বিপরীতে এক জন, ওয়ার্ডবয় ১৪ জনের বিপরীতে ১২ জন, ট্রেচার কেরিয়ার (রোগী বহনকারী) এক জনও নেই, অ্যাম্বুলেন্স ক্লিনার এক জনের বিপরীতে এক জনও নেই, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) দুই জনের বিপরীতে এক জন, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ল্যাব অ্যাটেন্ড পদটি শূন্য, চৌকিদার চার জনের বিপরীতে দুই জন, আয়া ছয় জনের স্থলে চার জন, কুক দুই জনের বিপরীতে এক জন কর্মরত আছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮২ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ১৫২ পদের মধ্যে বর্তমানে ৭৪টি পদে লোকবল আছে। আর গুরুত্বপূর্ণ ৭৮টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিত্সা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বছরের পর বছর পদগুলো শূন্য রয়েছে। কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, শুধু নামেই চলছে হাসপাতালের কর্যক্রম। দরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য যেতে হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালের প্রধান সহকারী সেগুপ্তা বাহার বলেন, এক সময় হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসত। আর এখন চিকিত্সক নেই, তাই রোগীও আসে না। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় রোগীরা বাইরে চিকিত্সা নিচ্ছে। এটি সচল করা হলে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের দোরগোড়ায় চিকিত্সাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো।

হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ ৩২-১৪% করা হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া হাতেগোনা দুই একটি পরীক্ষা ছাড়া সব ধরনের পরীক্ষা (টেস্ট) বাহির থেকে করে আনতে হয়। যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীরা।

তিনি আরো বলেন, রেলওয়ে চিকিত্সাসেবার নীতিমালা অনুযায়ী এক জন রোগী (কর্মচারী) ১৫ হাজার ৮৩০ টাকার নিচে যারা বেসিক পাবে তারাই শুধু খাওয়ার বরাদ্দ পাবে। এর ওপরে এক টাকা বেশি হলে নিজস্ব খরচে খেয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় মেডিক্যাল কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. শামীম আরা বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে একাই চিকিত্সাসেবা দিয়ে আসছি। জনবল সংকটের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। খাওয়ার বরাদ্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এখানে আমার কোনো হাত নেই।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে ভালো সেবা দেওয়ার জন্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি। সেখানে রয়েছে জনবল সংকট, চিকিত্সক ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি রোগী পরিবহনের জন্য নেই অ্যাম্বুলেন্স। তবে শুনেছি কিছুদিন আগে এক জন ডেন্টাল চিকিত্সক যোগদান করেছে। আশা করি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।