করদাতা চায় নির্ঝঞ্ঝাট হয়রানিমুক্ত পরিবেশ

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডের আয়কর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল মেলার তৃতীয় দিনে দেশব্যাপী ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪০ জন করদাতা মেলা থেকে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৩৪টি। এর বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ২৬২ কোটি ২ লাখ টাকা। এ নিয়ে গত তিন দিনে মেলায় এসে রিটার্ন দাখিল, কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) গ্রহণসহ অন্যান্য কর সেবা গ্রহণ করেছেন ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮২ জন। তিন দিনে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৪৯ জন করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে সবমিলিয়ে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ই-টিআইএন নেওয়ার মাধ্যমে আয়করের খাতায় নাম লিখিয়েছেন ১১ হাজার ৯৭৯ জন। আজ রবিবারও অন্য দিনের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ করদাতাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় করদাতারা ওয়ান স্টপ সেবা পাচ্ছেন। অর্থাত্ এক জায়গায় আয়কর সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য রিটার্ন ফরম, চালান, ই-টিআইএন নেওয়া যাচ্ছে।

২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলার আয়োজন করে এনবিআর। ঐ বছর করদাতাদের ব্যাপক সাড়া দেখে পরবর্তী বছরগুলোতে ধীরে এর পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে দেশের অল্প কিছু উপজেলা বাদে অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন মেয়াদে আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় ঝামেলাহীন রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় করদাতারা এ সুযোগ নিচ্ছেন। তবে তারা আয়কর মেলা ছাড়াও কর অফিসেও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর থেকে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলায় এসে রিটার্ন দাখিল করেছেন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এনায়েতুর রহমান। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত সাত বছর থেকেই আয়কর মেলায় এসে কর দিয়ে আসছি। কর অফিসে যে কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে দেখা করারই সুযোগ পান না, মেলায় তিনি তার চেয়েও সিনিয়র কর্মকর্তা টেবিলের অপর পাশেই বসে আমাদের সহযোগিতা করছেন। আন্তরিকতার সঙ্গেই রিটার্ন ফরম পূরণে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু সবসময় তো আর আয়কর মেলার আয়োজন হবে না। মেলার মতো এমন পরিবেশ আয়কর অফিসগুলোতেও বাস্তবায়ন করা দরকার। এটি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে। করদাতারা চায় হয়রানিমুক্ত পরিবেশ।

আরেকজন করদাতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাকে বলেন, কর অফিসগুলোতে হয়রানি, অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে যে, একবার করের খাতায় নাম লেখালেই জালে আটকে গেলাম। এর থেকে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি আয়কর মেলা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে, একবার কর দিলে আটকে গেলাম। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কর কর্মকর্তাদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও অন্যায় হলে মেহেরবানি করে আমাকে জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও বলেছেন, কর অফিসেও যাতে কর মেলার মতো পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়—এজন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।