প্যারিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর দুই রাত অবৈধ ড্রোন ওড়াওড়ির ঘটনায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। পরিবেশবাদী আন্দোলনের কর্মী, সন্ত্রাসী, দুষ্টু ছেলের দল—সন্দেহের তালিকা থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। অবশ্য অবৈধ এই ড্রোন অনুপ্রবেশের দায়দায়িত্ব এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। প্যারিস কর্তৃপক্ষ ও নগররক্ষীদের সামনে এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এমন একটি ড্রোন আটক করা সম্ভব?
সম্ভাব্য সেরা পাঁচটি উপায় খতিয় দেখেছে বিবিসি। এ বিষয়ে বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গুলি করে ভূপাতিত করা
যেকোনো হুমকি সৃষ্টিকারী কিংবা সন্দেহের উদ্রেককারী আকাশযানকে গুলি করে ভূপাতিত করার নীতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ক্ষুদ্রকার একটি বাণিজ্যিক সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা অনেকটা ‘মশা মারতে কামান ব্যবহারের’ মতো ব্যাপার। কিন্তু বিমান বিশেষজ্ঞ ক্রিস ইয়েটস বিবিসিকে বলছেন, ছোটোখাটো একটি ড্রোনও কোনো স্পর্শকাতর এলাকায় গিয়ে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ড্রোন দিয়ে ছোটোখাটো বোমাও বহন করানো সম্ভব।
লেজার ব্যবহার
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ড্রোন বিধ্বংসী লেজার রশ্মি প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির হাতে এখন এমন লেজার প্রযুক্তি আছে, যা একটি ড্রোনকে চিহ্নিত করবার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংস করতে পারে। ২০১২ সালে মার্কিন নেভিও একটি পর্যবেক্ষণ ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে লেজার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়।
নো ফ্লাই জোন
কয়েক বছর আগে এক মাতাল সরকারি কর্মকর্তা তার খেলনা ড্রোনটি উড়িয়ে হোয়াইট হাউজের লনের ওপর নিয়ে গেলে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এটি ছিল একটি ডিজেআই ফ্যান্টম ড্রোন। গত জানুয়ারি মাসে এই ড্রোনের চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসজেড ডিজেআই টেকনোলজি তাদের বানানো ড্রোনগুলোতে নতুন এক প্রযুক্তি জুড়ে দিয়েছে। এখন এসব ড্রোন হোয়াইট হাউজের সাড়ে পনেরো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ঢুকে পড়লেই এতে থাকা একটি জিপিএস সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রোনের মোটর বিকল হয়ে যাবে। কোনো বিমানবন্দরের কাছে ড্রোনের চলে যাওয়াও ঠেকাতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।
জাল ব্যবহার করা
ড্রোন ধরার একটা সাধারণ কৌশল হলো জাল ব্যবহার করা। দুটি বড়ো ড্রোন দুপাশ দিয়ে ধরে একটি বড়োসড়ো জাল টেনে নিয়ে যাবে। আর সেই জালে ধরা পড়বে অবৈধ ড্রোন। ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে ১৩টি স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে অবৈধ ড্রোনের ওড়াওড়ির ঘটনা ঘটার পর এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল। এজন্য না লেগেছে কোনো বুলেট, না লেগেছে ক্ষেপণাস্ত্র, না লেগেছে লেজার। শহুরে এলাকার জন্য এটা খুব আকর্ষণীয় একটা উপায় হতে পারে।
জ্যাম করে দেওয়া
ড্রোন চিহ্নিত করার একটা বড়ো বাধা হলো, সাধারণ রাডার খুদে ড্রোনগুলোকে অনেক সময় পাখি ভেবে ভুল করে। তবে ড্রোন যেহেতু রেডিও সংকেত ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়, তাই এই সংকেত অচল করাও সহজ। সূত্র :বিবিসি
