নিলয় মামুন
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাস্তা পারাপারের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রথমবারের মতো চালু করে পুশ বাটন পদ্ধতি। রাজধানীর আসাদ অ্যাভিনিউ এবং মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বসানো হয় এ দুই অত্যাধুনিক সিগন্যাল। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও চালকদের নিয়ম না মানার কারণে মিলছে না এর সুফল। যখন তখন হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছে মানুষ। অন্যদিকে চালকরাও তাদের মতো করে লাল বাতি জ্বলার পরও গাড়ি থামাচ্ছে না।
গত ২৪ অক্টোবর সড়ক পারাপারে পথচারীদের জন্য পরীক্ষামূলক ডিজিটাল পুশ বাটন পদ্ধতির উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এর পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ৯ লাখ টাকা। তবে উদ্বোধনের পরেই অকেজো হয়ে পড়ে আসাদ অ্যাভিনিউয়ের পুশ বাটনটি। পরে সেটি মেরামত করা হয়। পুশ বাটন পদ্ধতিতে সড়কের উভয় পাশে দুটি বাটন রাখা হয়। ডিজিটাল পুশ বাটন সিগন্যালের নিয়ম অনুযায়ী সড়ক পারাপারে ইচ্ছুক কোনো পথচারী পুশ বাটনে চাপ দিলে ডিজিটাল সিগন্যালে একটি কাউন্টডাউন শুরু হবে। কাউন্টডাউনের নির্ধারিত সময় শেষ হলে পথচারীদের জন্য সবুজ সংকেত ভেসে ওঠবে সিগন্যালে। আর চালকদের জন্য ভেসে উঠবে লাল সংকেত।
মোহাম্মদপুরে স্থাপিত ডিজিটাল পুশ বাটনে প্রতি ৩ মিনিট পর পর ২৮ সেকেন্ডের জন্য পথচারী পারাপারে সংকেত দিতে থাকবে। ২৮ সেকেন্ড ধরে এলার্ম বাজতে থাকবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ধরনের সিগন্যাল পদ্ধতি চলমান থাকলেও বাংলাদেশে এটিই প্রথম। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নগরের ৪৮টি স্থানে এ ধরনের সিগন্যাল পদ্ধতি চালু করার কথা রয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথমে ২০টি স্থানে এবং পরে বাকিগুলো স্থাপনের কথা রয়েছে। তবে যে দুটি জায়গায় এটি স্থাপন করা হয়েছে তাতে অনেকেই জানেন না সড়কের এই পুশ বাটন পদ্ধতি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। আবার কেউ কেউ জানলেও তা মানতে চাইছে না। যদিও পদ্ধতিটি এখনো পরীক্ষামূলকভাবেই চলছে। তবে নিয়ম মানার ক্ষেত্রে অমান্যকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিকরা।
মোহাম্মদপুরে গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে বসানো সিগন্যালটি কাজ করলেও তা খুব একটা মানতে দেখা যায় না পথচারী বা যানবাহন চালকদের। নিয়ম অনুযায়ী, পারাপারের আগে পুশ বাটন চাপ দিয়ে সবুজ বাতি জ্বলা সাপেক্ষে সড়ক পারাপারের কথা থাকলেও পথচারীরা চিরাচরিত হাত জাগিয়েই নেমে যাচ্ছেন সড়কে। পথচারীদের জন্য সবুজ বাতি জ্বললে যানবাহনগুলোর জন্য জ্বলে ওঠে লাল বাতি। কিন্তু, সেই লাল বাতি দেখেও যানবাহন থামাতে দেখা যায় না পরিবহন চালকদের। এ বিষয়ে চালক ও পথচারীরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
মাহবুব নামে এক পথচারী জানান, সিগন্যাল দিলে গাড়িগুলো থামে না। তাই, এভাবেই চলে আসি। আর এখানে গাড়ি ধীরে চলে। তাই সিগন্যাল বাতি ছাড়া এভাবে আসলেও সমস্যা হয় না। এখানে যদি বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ি থামার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে গাড়িও থামত আর আমরাও সিগন্যাল মেনে রাস্তা পার হতাম। এদিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. রনি শেখ জানান, ‘ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা চার জন এখানে দায়িত্ব পালন করি। আমাদের কাজ হলো, ডিজিটাল পুশ বাটন ব্যবহার সম্পর্কে পথচারী এবং যানবাহন চালকদের সচেতন করা। কিন্তু কেউই আমাদের কথা মানতে চাইছে না।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু প্রকল্পটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে, তাই এখনই আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি না। আপাতত আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছি। কারণ অনেকেই এখনো জানে না এটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। তবে জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে এবং এর কার্যকর সুফল মিললে ভবিষ্যতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আরো এমন ডিজিটাল পুশ বাটন পদ্ধতি চালু করা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘পুশ বাটন সিগন্যালে অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানো হবে। এতে পথচারী পারাপারের সময় যদি কোনো গাড়ি আইন না মানে তাহলে ঐ গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা হয়ে যাবে। নগরবাসী সুবিধার কথা চিন্তা করে ডিএনসিসির সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সিগন্যালগুলো বসানোর কাজ করছে।
