পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সেখানকার শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। গতকাল দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে দুবাই এয়ার শো-২০১৯-এর ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান এক সৌজন্য সাক্ষাত্কালে এ ইঙ্গিত দেন।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শিগিগরই তার দেশের শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যুবরাজ নাহিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার পরবর্তী আমিরাত সফরকালে আপনাকে এ প্রশ্নটি আর করতে হবে না।’
তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আগের চেয়ে বেশি ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
সাক্ষাত্ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, যুবরাজ বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানিরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উদ্বৃত্ত চাল উত্পাদনকারী দেশ। বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের চাল উত্পাদন করছে। আমরা বিভিন্ন দেশে চাল রপ্তানি করছি।’
যুবরাজ বলেন, তারা বাংলাদেশ থেকে সেরা মানের চাল আমদানি করতে চায়। তার দেশ তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চাল দেখার জন্য বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে পাঁচ দিনব্যাপী ষোড়শ দ্বিবার্ষিক এয়ার শো ইভেন্ট ‘দুবাই এয়ার শো ২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। দুবাইয়ের ভবিষ্যত্ বিমানবন্দরের (দুবাই আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবেও পরিচিত) দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে এই এয়ার শো শুরু হয়েছে ১৭ নভেম্বর। চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুবাইয়ের আকাশে দ্বিবার্ষিক এই এয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে সফল এয়ার শো এবং মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকা বৃহত্তম এরোস্পেস ইভেন্ট।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে এই এয়ার শোতে অংশ নেন। পরে তিনি দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফ্লাইং ডিসপ্লে উপভোগ করেন। এ বছর সারা বিশ্বের ৮৭ হাজারের বেশি ট্রেড ভিজিটর ও ১ হাজার ৩০০-এর বেশি এক্সিবিটর দুবাইয়ের ভবিষ্যত্ বিমানবন্দর দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে এ উপলক্ষ্যে সমবেত হয়েছেন। এছাড়া এতে ১৬০টি দেশ থেকে ১৬৫টি বিমান অংশ নিচ্ছে। এটি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এয়ার শো সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের এই শোতে ১১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল এয়ারবাসের কাছে ৪৩০টি বিমানের জন্য ৪৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইন্ডিগো পার্টনারস অর্ডার এবং ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে বোয়িংয়ের ২৭ বিলিয়ান মার্কিন ডলার চুক্তি।
১৯৮৯ সালে দুবাই এয়ার শোটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। এটি এখন বেসামরিক বিমানশিল্পের জন্য একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফরমে পরিণত হয়েছে। এখানে বিশ্বের বিমান প্রস্তুতকারক তাদের প্রস্তুতকৃত নতুন মডেলের বিমান প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। পাশাপাশি এখানে প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের কোম্পানিগুলো নতুন নতুন প্রযুক্তি, সুযোগ এবং এই শিল্পের প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েও আলোচনা করতে পারে।
ইউএইর বিমান কোম্পানিগুলো বেশ কিছু নতুন অর্ডার ঘোষণা করে এবং তাদের আগের চুক্তিগুলো নিশ্চিতের মাধ্যমে একে এই অঞ্চলের সবচেয়ে সফল ও বৃহত্তম প্রদর্শনিতে পরিণত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আবুধাবির শাংরিল-লা হোটেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ ইমরান আয়োজিত এক নৈশভোজে তিনি যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী সফরকালীন এই হোটেলেই অবস্থান করছেন।
প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ার শো-২০১৯ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ১৮ নভেম্বর আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণে নির্বাচন কমিশনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর চার দিনের সফর শেষে ১৯ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।
