খুলনার প্রান্তিক, বর্গা ও মহাজন চাষিদের বাড়িতে তোড়জোড় চলছিল পাকা আমন ধান কাটার। অপেক্ষা ছিল সোনালি ধান তোলার। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে পানিতে শুয়ে পড়েছে গোছা গোছা ধানের শীষ। টানা বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাসে পাকা ধানখেতে প্রকৃতিই মই দিয়েছে। ২৫ হাজার হেক্টর আমন খেতে পাওয়া যাবে চিটে। জেলায় এমন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪০ হাজার। ক্ষতি হয়েছে ৪৮ কোটি টাকার কৃষি পণ্যের।
গত ৯ নভেম্বর ভোরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যখন খুলনা-সাতক্ষীরার সুন্দরবন অংশে প্রবেশ করে তখন অনেকটাই দুর্বল। উপকূলে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০০-১২০ কিলোমিটার। তবে চার ঘণ্টার ঘূর্ণিঝড়ে খুলনার ফসলি জমিতে রেখে গেছে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। মাটিতে মিশে গেছে আমন ধান, শাকসবজি, সরিষা, পানের বরজ, পেঁপে ও কলাগাছ।
কৃষি সম্প্রসারণ জেলা অফিস সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধানখেত, ৮৬৪ হেক্টর জমির শাকসবজি, ৪০ হেক্টর জমির সরিষা, ৩৬ হেক্টর জমির পানের বরজ, ১৫২ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপেগাছ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, উপজেলায় বরাতিয়া, শলুয়া, শরাফপুর ও রংপুর গ্রামে পেঁপে ও কলাবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শরাফপুর ও বরাতিয়া গ্রামে আমন ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ উপজেলায় ২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
