কুমিল্লায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করতে তার বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনা জানার পর তাত্ক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে নাটকীয় কায়দায় নগরীর নেউড়া এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলা হতে শেকল বাঁধা অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের জামাল মিয়া নামে এক জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকা হতে ভিকটিমকে অপহরণ করা হয়েছিল। রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন।
ভিকটিম জানান, মূলত তাকে জিম্মি করে তার মেয়েকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণকারীরা এ ঘটনা ঘটায় এবং এ বিষয়ে তারা আলোচনা করছিল। এদিকে এই ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে রবিবার রাত ৮টার দিকে চার জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহউদ্দিন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন সাংবাদিকদের জানান, আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার ঐ ব্যক্তি (৪৫) গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি হতে বের হয়ে তার বোনের বাড়ি পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখোলা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে দৌলতপুর এলাকার চিশতিয়া জুট মিলের সামনে গেলে সেখানে সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেট কারে চার জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গতি রোধ করে এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অপহরণকারীরা ভিকটিমের মেয়ের মোবাইলে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নগরীর নেউড়া এলাকায় যেতে বলে এবং তার বাবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে ভিকটিমের মেয়ে বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার ও ঘটনাস্থল থেকে জামাল মিয়াকে আটক করে। আটক ব্যক্তি জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
