ভোটকক্ষ থেকে এবার সরাসরি সম্প্রচার নয়

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষ (বুথ) থেকে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা সরাসরি কোন তথ্য সম্প্রচার করতে পারবেন না। তবে ভোটকক্ষের ছবি তোলা যাবে। আর সম্প্রচার করতে পারবে ভোটকেন্দ্র থেকে। ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে সীমিত আকারে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ঢুকতে পারবেন।

গতকাল শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় সিইসি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উপর হামলার ঘটনাকে দু:খজনক ও অনাকাঙ্খিত আখ্যায়িত করে বলেন, ওই ঘটনা নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হবে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হবে না। আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবে। কোন জায়গায় বিশৃঙ্খলা হলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

এর আগে শনিবার সকালে এক বৈঠকে বসেন কমিশনারগণ। বৈঠকে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ অনুমোদন এবং আচরণ বিধি প্রতিপালনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকের পর বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি। বৈঠকের পর সিইসি জানান, ভোটের সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোর জি থেকে টুজিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবাদিকদের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে ভোটকক্ষে টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। ভোটকক্ষ থেকে বাইরে এসে বারান্দায় বা মাঠে এসে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। সাংবাদিকদের প্রতিটি কেন্দ্রে সীমিত আকারে যেতে হবে। কারণ একসাথে অনেকে গেলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে। সেক্ষেত্রে কতজন একসঙ্গে যেতে পারবেন তা নির্বাচন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করে অনুমোদন দেবেন। তিনি বলেন, ভোটকক্ষে মোবাইলে ছবি তোলা যাবে কিন্তু মোবাইলে কথা বলা যাবে না। সাংবাদিকদের মত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একই ধরনের নির্দেশনা মানতে হবে। সিইসি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাজে কোন ধরণের ব্যাঘাত না ঘটে। প্রিজাইডিং অফিসারের ব্যবস্থাপনা মানতে হবে। এ সময় সিইসির পাশে থাকা নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি ভোটারদেরকে কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন তার ছবি দেখাতে বলেন। তাই আমরা বলছি, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না।

সিইসি বলেন, ড. কামাল হোসেন একজন সিনিয়র সিটিজেন ও প্রখ্যাত ব্যক্তি। তার ওপর হামলা হওয়াটা কখনোই প্রত্যাশিত নয়, কাঙ্খিত নয়। এক্ষেত্রে ফৌজদারী অপরাধ হয়েছে। ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় তা হবে। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) আমাদের কাছে বিষয়টি দেখার জন্য আবেদন করেছে। আমরা এটা দেখার জন্য নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাবো। তারা রিপোর্ট দিলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, কাল-পরশুর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজিকে চিঠি দেবো, তারা যেন কোন প্রার্থী বা রাজনীতিক কোন কর্মীকে ফৌজদারী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে বিনাওয়ারেন্টে বা নিষ্প্রায়োজনে হয়রানি না করে তা বলে দেবো।

বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অহেতুক কাউকে গ্রেফতার হয়েছে তা বলা যাবে না। হয়তো তাদের বিরুদ্ধে মামলা মোকাদ্দমা ও ওয়ারেন্ট থাকতে পারে। সেই কারণে তাদের গ্রেফতার করে থাকতে পারে। এটা তাত্ক্ষনিক বলতে পারবো না।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা মনে করি লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। সত্ প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারছে। প্রচারে কোন বাধা নেই। স্থানীয়ভাবে ফৌজদারী অপরাধ ঘটলে সেক্ষেত্রে তারা মামলা করবে বা আমাদের কাছে পাঠাবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতি হলে তারা হস্তক্ষেপ এবং গ্রেফতার করতে পারবে। যদি ম্যাজিস্ট্রেট থাকে বা কোন একটি এলাকা/কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, ইমেডিয়েট হস্তক্ষেপ করার দরকার হয় সেটা আইনেই বলা আছে। সিআরপিসিতে আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনে আচরণ বিধি লংঘন ও হামলার ঘটনায় ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইসি বলেন, আচরণ বিধি লঙ্ঘনে কতজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে সেই তথ্য নেই। আমাদের কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের যেসব অভিযোগ আসছে তা ইলেকস্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেবো। কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবো। তারা এগুলো স্থানীয়ভাবে দেখবে। স্থানীয়ভাবে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং অফিসার তার ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন তারাও দেখবেন। আমরা ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা বিষয়গুলো দেখছে। এ সময় সিইসির পাশে আরও ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।