চরফ্যাশনে লাম্পি স্কিন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত কয়েক হাজার গরু

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৪

চরফ্যাশন উপজেলায় কয়েক হাজার গরু লাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিপাকে গৃহস্থরা। উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর জানাচ্ছে, উপজেলায় গরু আছে এক লাখ ১৮ হাজার ২২৩টি। এর মধ্যে শতকরা ১০টি গরু এ রোগে আক্রান্ত। 

জানা যায়, চরফ্যাশনে ১৮৫টি গরুর খামারের অধিকাংশেই এই রোগটি দেখা দিয়েছে। উপজেলার চরনিজাম, চর হাসিনা, জাহানপুর, চরফকিরা, হাজারীগঞ্জ, চরমানিকা এবং ঢালচরে গত এক মাসে ১১ হাজারের বেশি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগাক্রান্ত গরুগুলো না খাওয়ায় দুর্বল হয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গরুর খামারি খলিল জানান, আক্রান্ত গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটি ওঠে ফুলে যায়। পরে গুটিগুলোয় দগদগে ঘা সৃষ্টি হয় এবং ক্ষত স্থানের চামড়া ও মাংস পচে যাচ্ছে। শরীরে প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথা থাকায় খাওয়া বন্ধ করে গরুগুলো দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের খামারি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি গরুর ওষুধে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় আক্রান্ত গরু নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। 

আরও পড়ুন: খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আতিকুর রহমান জানান, ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায়। আমরা সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রোধে অবস্থা নির্ণয় পূর্বক এন্টিবায়োটিক দিচ্ছি এবং পাশাপাশি ব্যথানাশক ও এন্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করছি। রোগ সামান্য হলে ৪-৫ দিনে ভালো হয়ে যায়। বেশি হলে ২-৩ সপ্তাহ লাগে। 

তিনি বলেন, মশা ও মাছির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। তাই আমরা খামারে গিয়ে এর আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। উপজেলায় রোগটি প্রথম। তাই হাসপাতালে এর ভ্যাকসিন নাই। গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

ইত্তেফাক/এসি