l নওশীন শর্মিলী
বর্তমানে অন্দরমহলের সাজসজ্জা নাগরিক জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বসবাসের জায়গা বা কর্মক্ষেত্রে নতুনত্ব আনতে গৃহশৈলীর দিকে নজর দিচ্ছেন সবাই। যে ঘরে আপনার নিত্য বসবাস, সেটি আকর্ষণীয় হওয়া চাই। এ সময়ে ঘর সাজানোর কৌশলকে তুলনা করা যেতে পারে যেকোনো শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে। কেননা শত শত বছর ধরে স্থাপত্যশৈলীতে যোগ হয়েছে নানা মাত্রা। যার প্রভাব পড়েছে গৃহসজ্জায়। বাড়ির বাহিরটা দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই ভাবনায় নিজেদের ফার্নিচার লাইন শুরু করেছে ডেকো ইশো গ্রুপ। মডার্ন ও স্মার্ট আসবাবের সম্ভার বাজারে এনেছে ইশো। সময় আর পরিসরকে বিবেচনায় রেখে এসব আসবাবের ডিজাইন করা হয়েছে। আর ডিজাইনে গুরুত্ব পেয়েছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত্। অর্থাত্ আমাদের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ কারুশিল্পকে নতুন সৌন্দর্য ও মাত্রায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আর সেই উপস্থাপনায় সমকালীন চাহিদার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে ভবিষ্যতের উপযুক্ততা। ফার্নিচার লাইন করার আগে ইশো অনেক ভেবেচিন্তেই কাজ শুরু করেছে। কারণ, আসবাবের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আমাদের দেশের বাজারের কোনো মিলই নেই। সেজন্য প্রথমেই বাজার জরিপ ছিল তাদের প্রকল্প শুরুর প্রথম পদক্ষেপ। বর্তমানে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, তরুণ দম্পতি, প্রযুক্তি অনুরক্ত ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলে, উদ্যোক্তাদের পছন্দ জেনে নিয়েই ডিজাইন ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করে ইশো। বস্তুত, বিদেশি সিনেমায় বা নেটের দুনিয়ায় যে ধরনের আসবাব আমরা দেখি, অভ্যন্তরীণ সজ্জা আর আবহের সঙ্গে পরিচিত হই, তা আমাদের দেশে মেলে না। অথচ এখানকার নতুন প্রজন্ম সেটাই চায়। মাত্রা আনতে চায় তাদের যাপনে। হয়ে উঠতে চায় এই সময়ের প্রতিনিধি। চায় কোজি, স্লিম আর ফাংশনাল জিনিসপত্র। বাজার জরিপে উঠে আসা এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই প্রোডাক্ট ডিজাইনে মনোযোগী হয় ইশো। ইন্টেরিয়র ডিজাইনে আসবাবপত্রের ব্যবহারে ভিন্নতা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের জনপ্রিয় পাঁচটি উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় পাঁচটি নান্দনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন উপস্থাপন করেছে তারা। উপন্যাসগুলো হলো ‘ট্রন’, ‘হ্যারি পর্টার’, ‘সেডাকো অ্যান্ড থাউজেন্ড পেপার ক্রেইন’, ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ও ‘নষ্টনীড়’। সম্প্রতি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত লিট ফেস্টে এই ইন্টেরিয়র উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে ডেকো ইশো গ্রুপের পরিচালক রাইয়ানা হোসেন বলেন, ‘ঐতিহ্যকে আধুনিকতার জাদুস্পর্শে উপস্থাপনই আমাদের লক্ষ্য। সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন উপকরণে নিজেদের স্টেট অব দ্য আর্ট ফ্যাক্টরিতে তৈরি সব ট্রেন্ডি ফার্নিচারের অনবদ্য লাইন রয়েছে আমাদের। একেবারে মিলিমালিস্টিক অথচ ট্রেন্ডি ডিজাইনের ফার্নিচার যে কারোরই নজর কাড়বে। বাংলাদেশের কারুশিল্পের ঐতিহ্য বর্ষপ্রাচীন আর সমৃদ্ধ। ফলে সেই হেরিটেজকে আধুনিক ভাবনায় ফুটিয়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
