একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুলিশ, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়ে গতকাল শনিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এ অভিযোগ জানায়। এসময় গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি। ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলাল সাংবাদিকদের বলেন, সব জায়গায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এই তিন বাহিনীর মোকাবেলা করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া। তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলো করছেন। গত শুক্রবার সারাদেশে বিভিন্ন আসনে যেসব হামলা ও সহিংসতা হয়েছে, সে বিষয়গুলো আমরা ইসিকে জানিয়েছি। আক্রমণ বন্ধ করতে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করেছি।
আলাল বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদের স্ত্রী ও সিরাজগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী রোমানা মাহমুদের নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি করা হয়েছে। আমরা মামলা করতে গিয়েছি, পুলিশ মামলা নেয়নি। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু দাউদকে প্রত্যাহার করতে বলেছি। তিনি আরো বলেন, ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে ইসি সচিব বলেছেন, উনারা নাকি অবহিতই না। এটা খুব আশ্চর্য লাগে আমাদের কাছে। খুব কষ্ট লাগে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এত মারপিটের পরও আমরা মাঠে আছি। আমরা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবো। তিনি আরো বলেন, মহামান্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জাতীয় ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাক্ষাত্ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে আমরা উনার কাছেও এসব বলবো। তাতেও কাজ না হলে জনগণের কাছে বিচারের দাবি ছেড়ে দেবো।
এদিকে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন ওই প্রার্থীর স্ত্রী রওশন আরা। গতকাল দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জানান তিনি।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রচারণায় বাধার অভিযোগ:সারাদেশে অন্তত দশটি সংসদীয় আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছে জোট। একই দিন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জানান। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
