চট্টগ্রামে সরব মহাজোট ঐক্যফ্রন্টের তত্পরতা কম

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে একত্রে কাজ করছেন। অতীতের সব বিরোধ ভুলে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে কিছু কিছু নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে গতকাল শনিবার নগরীর চকবাজার এলাকায় প্রচারণা মিছিল থেকে বিএনপির এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কি নামে এই নেতা নগর বিএনপির সহ-সভাপতি। এতে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে কমবেশি নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। কিছু কিছু আসনে বিএনপির প্রচারণা এখনো জমে উঠেনি। মামলা নিয়ে আতঙ্ক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ পুরোপুরি নিরসন হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাসদের মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি। এই আসনে বাদলের পক্ষে এখনো তেমন প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। তবে ধানের শীষের প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের মধ্যে তার বিরোধী একাধিক গ্রুপ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরোধী ২/৩টি গ্রুপ রয়েছে। গত দুইবারের এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েলকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়াও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তবে কয়েকদিন আগে সব গ্রুপের নেতাকর্মীরা এক মঞ্চে এসে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। একত্রে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী দলের মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে তার প্রচারণায় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উত্সবমুখর অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সওয়ার জামাল নিজাম। তবে এলাকায় দলের মধ্যে তার শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তিনি গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার অনুসারীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সব পক্ষই প্রচারণা চালাচ্ছে। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা জেলে বিধায়, তার অনুসারীরা মাঠে নামতে পারেনি।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনে সকল প্রার্থী দিনেরাতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এখানে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে। চট্টগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। তিনি এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী  প্রচারণা শুরুই করতে পারেনি। এলাকায় তার কোনো পোস্টারও দেখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাছান মাহমুদ এমপি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী এলডিপির নুরুল আলম। এলাকায় তার কোনো নির্বাচনী তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। ধানের শীষের কোথাও পোস্টার লাগানো হয়নি। চট্টগ্রাম-২ আসনে ত্রিমুখী প্রচারণা জমে উঠেছে। এখানে মহাজোট থেকে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মহাজোট প্রার্থী বিপাকে পড়েছে। অন্যদিকে দলের মধ্যে বিরোধ থাকলেও ধানের শীষের প্রার্থী ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-৬ আসনে নৌকার প্রার্থীর একতরফা প্রচারণা চলছে। ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো পোস্টার বা প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম-৫ আসনে নৌকা ও ধানের শীষের পক্ষে সমানে প্রচারণা চলছে।