সিনিয়র সিটিজেনদের অনেকেই অবসরজীবনে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করে থাকেন। কিন্তু তাদের এই ভ্রমণ অধিকাংশ সময়ই আনন্দদায়ক না হয়ে বিরক্তিকর হয়। বিশেষ করে যাতায়াতের সময় বয়স্ক ট্যুরিস্টদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। বয়স্ক টু্যুরিস্টদের বেশিরভাগই যাতায়াতের বাহন হিসেবে ট্রেনকে প্রধান্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো সত্যি কষ্টকর ব্যাপার। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে যদিও কাউন্টারে পৌঁছানো যায়, কিন্তু প্রায়শই বলা হয় টিকিট নেই। অনেক সময় নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে দূরবর্তী স্থানের টিকিটে দেওয়া হয়। যেমন আমরা একবার ফেনী জেলা ভ্রমণের জন্য টিকিট চাইলে ফেনীর টিকিট নেই বলে চট্টগ্রামের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের এক শ্রেণির কর্মচারী পরিকল্পিতভাবে যাত্রীদের হয়রানি করে—যাতে তাঁরা ট্রেনে যাতায়াতের পরিবর্তে বেসরকারি বাসে যাতায়াত করেন। কমলাপুর স্টেশন থেকে বলা হয় টিকিট নেই। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর দেখা যায় প্রচুর সংখ্যক আসন খালি পড়ে আছে। টিকিট ছাড়াই প্রচুর যাত্রী ট্রেনে চড়েন। ট্রেনের যাঁরা টিকিট চেকিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের অনেকের আচরণে মনে হয় তাঁরা যেন টিকিটবিহীন যাত্রী পেলেই বর্তে যান। এই রহস্যের কারণ উদ্ঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গের কয়েকটি রুটে যাতায়াতকালে একটি বিষয় অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি। কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন অত্যন্ত ধীর গতিতে চলাচল করে। বিভিন্ন স্থানে বিরতি দিয়ে থাকে। এর কারণ খুঁজে বের করা দরকার। বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টর হচ্ছে সবচেয়ে সমস্যা সঙ্কুল একটি সেক্টর। ফলে অনেকেই বাসে যাতায়াতের ব্যাপারে আগ্রহ হরিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু ট্রেনের প্রতি এখনো মানুষের এক ধরনের আলাদা আকর্ষণ আছে। বিশেষ করে ট্রেনে ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকায় প্রবীণ মানুষগুলো ট্রেনে চলাচলে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। তাই ট্রেন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবীণ পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। যেমন অন্তত ১০ শতাংশ আসন নির্ধারিত রাখা। একইসঙ্গে তাঁরা যেন খুব সহজে টিকিট পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করা।
এম এ খালেক
৩৯৪/৩ মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা ১২১৭
