সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বায়ুদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের শহরও এখন নয়াদিল্লি। দূষণের কারণে নয়াদিল্লিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-কলেজ। নাগরিক জীবনেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। বিষাক্ত সব উপাদানে ভারী হয়ে উঠেছে দিল্লির বাতাস। তবে দিল্লিবাসীর জন্য সুখবর নিয়ে সেখানে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘বিশুদ্ধ অক্সিজেন’ বার। পিওর অক্সিজেন নামের এই বারটিতে ২৯৯ টাকা খরচ করলেই ১৫ মিনিটের জন্য মিলবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন।
অভিনব আইডিয়ার এই অক্সিজেন বারটি খুলেছেন আর্যবীর কুমার ও মার্গারিটা কুরিতসিয়ানা। বিশুদ্ধ বারটি চালু হয়েছে এ বছরের মে মাসে। খোলার পর থেকেই বারটিতে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করতে যাচ্ছে মানুষ।
শহরবাসীকে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জোগান দিতে সাতটি ভিন্ন সুগন্ধেরও ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। লেমনগ্রাস, অরেঞ্জ, সিনামোন, স্পিয়ারমিন্ট, পেপারমিন্ট, ইউক্যালিপটাস ও ল্যাভেন্ডারের সুবাসে মিলবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন। নাকে নল লাগিয়ে এই বিশুদ্ধ বাতাস নিতে পারছেন গ্রাহকরা। বারে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিতে আসা গ্রাহকদের একজন বলেন, ‘বাইরে দূষণের মাত্রা খুব বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এখানে অক্সিজেন নিতে আসছি। এখানে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নেওয়ার পর বেশ প্রশান্তি মিলেছে।
‘পিওর অক্সিজেন’ বারের সিনিয়র সেলসম্যান বনি ইরেগবাম বলেন, ‘গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। ১৫ মিনিটের সেশনে অক্সিজেন নেওয়াকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। কেউ কেউ কৌতূহলবশতই আসছেন বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিতে। কিন্তু যারা নিয়মিত বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিচ্ছেন তারা নিশ্চিতভাবেই লাভবান হচ্ছেন।’
বারের স্টোর অপারেটর অজয় জনসন জানান, দিল্লিতে অক্সিজেন বার এ-ই প্রথম। দিনে ১০ থেকে ১৫ জন অক্সিজেন নিতে আসেন এখানে। এছাড়া ছোটো পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যানও পাওয়া যাচ্ছে এখানে, যা সব সময় সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যায় এবং যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করা যায়।
মাত্রাতিরিক্ত গাড়ির সঙ্গে কলকারখানা সবকিছু মিলিয়ে এমনিতেই বায়ুদূষণ তীব্র আকার ধারণ করে দিল্লিতে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিদের খড়-বিছালি পোড়ানোর সমস্যা। নতুন ফসল ওঠায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা মাঠে লাখ লাখ বিঘার খড়-বিছালি পোড়ায়। সেই ধোঁয়াই দিল্লির বাতাসে আরো বেশি করে ছড়িয়ে দেয় বিষ। দিল্লির বাতাস হয়ে ওঠে আরো ভারী, শ্বাসরুদ্ধকর ও বিষময়। এর হাত থেকে রেহাই পাওয়া দিল্লিবাসীর জন্য প্রায় অসম্ভব।
হরিয়ানার গ্রামগুলো দিল্লি থেকে ৭৫ মাইল দূরে। আর পঞ্জাবের গ্রামগুলোর দূরত্ব ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত। প্রতি বছরই শীত আসার আগে এই দুই রাজ্যে ফসল তোলার পর শুকনো খড়-বিছালি পোড়ানোতে তার চরম প্রভাব পড়ছে দিল্লির বাতাসের ওপর। —ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
