চার আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ আদালতের

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৪

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা গেল কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন—বুয়েটের ছাত্র মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ও মুজতবা রাফিদ। এর আগে কারাগারে থাকা মামলার বাকি ২১ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ আসমির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  গ্রেফতারকৃত ২১ আসামির মধ্যে ১৬ জনের নাম আবরারের বাবার করা হত্যা মামলার এজাহারে আছে। তারা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মুহ্্তাসিম ফুয়াদ, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, মো. মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাক্্কারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, আকাশ হোসেন, মো. শামীম বিল্লাহ্্, মো. সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত, মো. মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা ও মুনতাসির আল জেমি। এজহারনামীয় আসামিদের মধ্যে এখনো তিন জন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহেতশামুল রাব্বি তানিম ও মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম।

অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, আবরার হত্যাকাণ্ডে এজহারনামীয় আসামি ছাড়াও ছয় জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দারা। এরা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে এবং বিভিন্নভাবে আবরার হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারা হলেন—অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামছুল আরেফিন রাফাত, ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না ও মুজতবা রাফিদ। এর মধ্যে মুজতবা রাফিদ পলাতক রয়েছেন। তবে পলাতক রাফিদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিন ৬ অক্টোবর রাতে মুজতবা রাফিদ বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছিলেন না। ঐ দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে হল থেকে উবারের ভাড়া করা গাড়িতে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে যান। রাত ১০টায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে দিনাজপুরে তার বাড়ি যান। ঘটনার সময় রাফিদের উপস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই। এমনকি তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ঐ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে ঐ সময় কোনো কথোপকথন হয়নি। রাফিদ বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সহদপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ঘটনার পরদিন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি রাফিদকে যাচাইবাছাই না করেই বহিষ্কার করে।