g মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিঙ্গাইর ( মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও নৌকার প্রচারণা ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর থেকে রক্ষা পায়নি হিন্দুদের মন্দিরও। এ ঘটনায় নৌকা এবং ধানের শীষ মার্কার লোকজন একে অপরকে দায়ী করছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থানার পশ্চিম পাশে একদল সন্ত্রাসী নৌকার ক্যাম্প এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় চেয়ার-টেবিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ছিঁড়ে ফেলা হয় নৌকার প্রার্থী মমতাজ বেগমের পোস্টার ব্যানার। একই কায়দায় আগের রাতে বায়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ তথা নৌকার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় শিবপুর গ্রামে হিন্দুদের কালীমন্দিরের মূর্তি। মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সংখ্যালঘুদের মনে।
থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত স্বাধীনতাবিরোধী ও তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং নৌকার অফিসে এসে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ইউএনও অফিস থেকে ফেরার পথে ওরাই আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের মারধর করে। এ সময় আমি পুলিশ প্রোটেকশন চেয়েও পাইনি। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং নৌকার অফিস তারাই ভাঙচুর করে আমাদের নামে মিথ্যে বলছে। এদিকে এ ঘটনায় থানা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ খান ৭০ জনকে আসামি করে গতকাল শনিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অপরদিকে বায়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ তথা নৌকার কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন বায়রা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লুত্ফর রহমান সেন্টু। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গেছে। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দেওয়ান মনিরুজ্জামান হিরুর নেতৃত্বে গত শুক্রবার উপজেলার বায়রাতে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন বায়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন।
খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এমপি ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন শেষে গত শুক্রবার রাতে থানা সদরে নিজ কার্যালয়ে এসে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা ডিসেম্বরের এ বিজয়ের মাসে যেভাবে বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঠিক একই কায়দায় পরাজিত শক্তিরা আবারও এ মাসেই গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এমনকি হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছে। তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে আর যেন কোনো ঘটনা তারা না ঘটাতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি পুলিশকেও নির্দেশনা দেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিঙ্গাইর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, সবগুলোর ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
