সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন শুধু মানুষ অবসর সময় পার করতে আসে না, নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও শখের নানান পণ্যের সমাহার
এখন ফেসবুক। ই-কমার্সের যুগে ফেসবুককে ক্রয়-বিক্রয়ের চমত্কার একটি প্ল্যাটফরম বানিয়ে শুধু উপার্জন করাই যে সম্ভব তা নয়, কেউ কেউ
এটিকেই নিজের পেশা হিসেবে কাজে লাগিয়ে নিচ্ছেন সফলভাবে। তেমনই কয়েকটি উদ্যোগের কথা লিখেছেন— ইফফাত ই ফারিয়া
বসন
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষে নাদিয়া হাবিব নদী এনার্জি বিজনেস নিয়ে ক্যরিয়ার শুরু করেন, এর পাশাপাশি রেডিও জকি হিসেবে দীর্ঘদিন ছিলেন। জানা গেল, তার মা ছিলেন আড়ংয়ের কোয়ালিটি ম্যানেজার, পরে বুটিক দিয়েসিলেন নিজের জমানো ১০ হাজার টাকা নিয়ে। মায়ের ১৮ বছরের পুরোনো বুটিক বসন বাংলাদেশ ই-অনলাইনে শুরু করলেন আবার। চাকরিতে মেয়েদের কাজের কিছু সীমাবদ্ধতা ও একান্ত নিজের কিছু একটা করার স্বপ্ন থেকেই মূলত এ কাজে আসা। অনলাইন শপটি সাজিয়েছেন দেশি-বিদেশি নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাকগুলো নিয়েই। বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শাড়ি পাওয়া যায়, কখনো ছেলেদের পাঞ্জাবির চাহিদাও থাকে। দেশে সফলতার সঙ্গে বিশ্বের ১০টি দেশে এই ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে এখন পর্যন্ত। চাকরি, সংসার সামলে ব্যবসা সহজ নয়, কিন্তু পরিবারের সাপোর্ট ছিল সব সময়ই। সামনে আরো বড়ো কিছু করার জন্য কাজ করছেন, দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান।
স্পার্কল ট্রেন্ডি থ্রেডস
মারজিয়া এশার শুরুটা ২০১২ সালে। শখের বসে ৫০০ টাকার ব্লক বাটিকের পোশাক প্রথম বিক্রি থেকে মাত্র ৫০ টাকা লাভ করেন। এরপর থান কাপড় আনা এবং তা দিয়ে বিভিন্ন নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে স্পার্কল ট্রেন্ডি থ্রেডস। তিনি শুরু করলেও বোন তানজিয়া আনিশার কথা না বললেই নয়। এ দুই তরুণীর পরিশ্রমের ফসল আজকের এই সফল ব্যবসা। রিসেলিং করার মাধ্যমে যে খুব কম মূলধন নিয়েও শুরু করা যায়, তা অনেকেই জানেন না। মূলত ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এর পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেন। অনলাইন ব্যবসা শুনতে খুব সহজ মনে হলেও বাধাবিপত্তি কম নয়। পরিবারের সহায়তায় এর মধ্যেই কাজ চালিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের ইচ্ছা ভবিষ্যতে একটি সুপার শপ দেওয়ার, যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য নারীরা এক জায়গা থেকেই সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
পিংকিশ বিউটি
হুমায়রা আদিবার ব্যাগ নিয়ে ব্যবসার যাত্রা কোনো আমদানিকারক বা কাঁচামাল বিক্রেতার মাধ্যমে হয়নি। শান্ত মারিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা চলাকালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডিজিটাল মার্কেটার হাসিন আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে। মূলত তার সহায়তায় ২০১৮ সালের মে মাসে চীন থেকে সরাসরি সুজেন ব্র্যান্ডের ব্যাগ বাংলাদেশে আনা শুরু করেন। ক্রেতাদের অভাবনীয় সাড়া দেখে ঠিক করেন ব্যাগ নিয়েই কাজ করবেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হলেও এই ব্যবসার আয় থেকেই পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি বেশ ভালোভাবেই। সম্প্রতি কিছু বিদেশি কাপড়ও এনেছেন মার্কেটে চাহিদা পরখ করতে। দেশি পণ্য নিয়ে কিছু করার উদ্দেশ্যে নানান ডিজাইন ও উপকরণ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তিনি পরিকল্পনা করছেন খুব শিগিগর বাংলাদেশে তৈরি ব্যাগ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার।
