ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি তৈরিতে পাঁচ বন্ধুর হাত বাক্স

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৭

>>  সাইফুল ইসলাম

 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে পাঁচ বন্ধুু মিলে গড়ে তুলেছেন হাত বাক্স। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মিনিয়েচার রেপ্লিকা তৈরি করছেন। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আরো পরিচিত করাই লক্ষ্য এ তরুণদের। পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা হলেন শাফাত কাদির, মোরসালিন অনিক, খায়রুল বাশার, তানজিনা তারেক, মো. রবিউল হোসাইন জুয়েল।

মিনিয়েচারের রেপ্লিকার মধ্যে বর্তমানে রয়েছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলা, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ।

সবচেয়ে জনপ্রিয়তার মধ্যে রয়েছে ফ্রিজ ম্যাগনেট। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, রিকশা, ট্রাক, পতাকা, লালবাস, ১৬ ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চসহ মোট ৪০ রকমের ফ্রিজ ম্যাগনেট। এগুলোর বাইরেও একেবারেই দেশি ঘরানার থিমেটিক ফ্রেম, কোট পিন ও বুকমার্কও রয়েছে হাত বাক্সের, জানান শাফাত কাদির।

মেশিন দিয়ে কোনো কিছু তৈরি হয় না। হাতের নিপুণ দক্ষতায় গড়ে তোলেন মিনিয়েচার রেপ্লিকা। যার ফলে দেখতে একদম ন্যাচারাল লাগে বলে জানান, প্রশাসনিক প্রধান খাইরুল বাসার।

স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের সকল জেলায় হাত বাক্সের অফিস থাকবে। যেখানে থাকবে সেই এলাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো।

বাংলাদের বাইরে কানাডাতে এখন আমাদের পণ্যগুলো যাচ্ছে। এছাড়া আমেরিকাসহ অনেক দেশ থেকে এখন আমরা অফার পাচ্ছি। অনলাইন ছাড়া হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, কক্সবাজারের মারমাইড বিচ রিসোর্টে আমারা আমাদের পণ্যগুলো দিচ্ছি বলে জানান কমিউনিকেশনের প্রধান তানজিনা তারেক।

হাত বাক্সের ডিজাইনার ও ক্রিয়েটিভ হেড রবিউল হোসাইন জুয়েল বলেন, ‘দেশীয় সকল উপকরণের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে মিনিয়েচারগুলো। নিখুঁত ডিজাইনে তৈরি এসব মিনিয়েচারে বৃহত্ একটি স্থাপত্যের ধারণা পাওয়া যায় নিমিষেই। ক্যামেরা ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছবি সংগ্রহ করে মেপেজুকে এসব মিনিয়েচার তৈরির কাজ শুরু করি।’

বর্তমানে হাত বাক্সে কাজ করছেন প্রায় ৩০ জন।

২০১৫ সালের দিকে কাজ শুরু করলেও বাজারে আসে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর। অনলাইন দিয়ে যাত্রা শুরু হয় হাত বাক্সের। যা শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই লাভের মুখ দেখেন বলে জানান প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান শাফাত কাদির।

মিনয়েচারের দাম কেমন জানতে চাইলে শাফাত বলেন, ‘প্রথমে আমাদের পণ্যের দাম বেশি ছিল। বর্তমানে বিক্রি বাড়াতে বেশি পণ্য তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে দামও কমিয়ে আনা হয়েছে। যার মধ্যে মিনিয়েচার রেপ্লিকা বা খুদে প্রতিকৃতির দাম এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ফ্রিজ ম্যাগনেটের পণ্যগুলো ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত আমরা বিক্রি করছি।’ প্রতি মাসে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সুভিনিয়র বিক্রি হচ্ছে তরুণ এ উদ্যোক্তাদের।

তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে শাফাত বলেন, ‘ভালো কাজ করাটা খুবই কঠিন। যখন কোনো কাজ শুরু করা হয়, তখন অনেক বাধাবিপত্তি আসে। আর এই বাধাগুলো যে কাটিয়ে উঠতে পারে, সফলতা তাকেই ধরা দেবে। তাছাড়া এমন কিছু তৈরি করো যেটা এখনো বাজারে আসেনি। যেইটা বাজারে চলে আসছে, সেটা করতে গেলে লাভবান হওয়ার চান্স কম থাকে।’