মানবতার কল্যাণে সেভ দ্য ফিউচার

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৮

>> মাহবুব নাহিদ

 

আমাদের দেশে বর্তমানে বহু মানুষ পথে বসবাস করে। তাই অযত্নে ভবিষ্যত্ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বহু শিশুদের। বিশাল এক জনগোষ্ঠী তারা, তাদের ফেলে রেখে আমাদের দেশের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই অসম্ভব। এ অবস্থায় প্রয়োজন সরকারের পাশাপাশি অন্য সবার এগিয়ে আসা। ২০১৫ সালে পথশিশু ও পথবাসীদের কল্যাণে এবং মানবিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ে কাজ করার জন্য জন্ম হয় ‘সেভ দ্য ফিউচার’ সংগঠনের। ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি পথে বসবাসকারী মানুষদের শীতবস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এই সংগঠন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা পরিচালক মেহেদী হাসানের কাছ থেকেই জানা গেল তাদের পথচলার ভিন্ন গল্প।

সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা মজুমদার এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। উপদেষ্টা হিসাবে রয়েছেন মাশরাফি বিন মোর্তজা ও শাফি মোদ্দাসের খাঁন জ্যোতি। সংগঠনের স্লোগান হলো ‘মানবতার স্পর্শে দূর হোক অন্ধকার’। সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০। সদস্যদের চাঁদার মাধ্যমেই পরিচালিত হয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। তাদের রয়েছে বহুমুখী কাজ। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য রয়েছে তাদের কয়েকটি বিদ্যালয়। লক্ষ্মীপুর, মিরপুর, কুমিল্লায় রয়েছে এই বিদ্যালয়গুলো আর সাভারের বিদ্যালয় তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাচ্চাদের শিক্ষাপ্রদান করা হয়। শিক্ষার পাশাপাশি তাদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ ও খাবার প্রদান করা হয়। এছাড়া তাদের রয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা দুর্গতদের ত্রাণ প্রদান করে থাকেন। তাদের ‘আলো ব্লাড ডোনার’ নামে একটি ব্লাড ডোনেশন অ্যাপ রয়েছে। যার মাধ্যমে কেউ চাইলেই বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ করতে পারে। তাদের সদস্যরা ইতিমধ্যেই পাঁচশর অধিক মানুষকে রক্তপ্রদান করেছে। বিডি ভয়েজ২৪.কম নামে তাদের একটি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। যেখানে তারা মানবিকতার জন্য কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী মানুষ ও সংগঠনকে তুলে ধরার চেষ্টা করে থাকেন। তারা ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খাবার বিতরণ করে থাকেন। তারা নিজেরাও শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও উদ্বুদ্ধ করা হয় বাচ্চাদের। এই সকল পথশিশুদের মুখের হাসিকে পুঁজি করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ সেভ দ্য ফিউচার সংগঠনটি।

তাদের স্বপ্ন বহুদূর পথ পাড়ি দেওয়া। ইচ্ছা আছে কয়েকটি স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিদ্যালয় তৈরির। একসময় ছোট অবস্থা থেকে শুরু করতে হয়েছে তাদের এই সংগঠন। অনেক লড়াই-সংগ্রামের পথ অতিক্রম করে কলেবরে বৃদ্ধি হয়েছে সেভ দ্য ফিউচার। তারা চান তাদের মাধ্যমে পথশিশুরাই একদিন বিদ্যালয় থেকে শুরু করে একদম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলে যাবে, উজ্জ্বল করবে দেশের নাম। আর তখনই স্বার্থক হবে সেভ দ্য ফিউচার সংগঠন।