রামগঞ্জ পৌরসভা
জাকির হোসেন মোস্তান, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। শহরের বেশিরভাগ সড়কে বড়ো বড়ো গর্তের কারণে চলাচলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে কাদাপানি জমে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোসহ প্রায় সব সড়ক বেহাল হওয়ায় জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বাইপাস সড়কটিতে বড়ো বড়ো গর্ত দেখা দিয়েছে। সড়কটি যানবাহন ও সাধারণের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে পানি জমে সড়কগুলো দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও রামগঞ্জ হাসপাতাল সড়ক, রামগঞ্জ থানা ও সাবরেজিস্ট্রি অফিস সড়ক, রামগঞ্জ সোনাপুর বাইপাস সড়ক, সোনাপুর থেকে চিতুসী চৌরাস্তা সড়ক, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিলা মাদ্রাসা সড়ক, রামগঞ্জ ওয়াপদা সড়ক, রামগঞ্জ মাছ বাজার সড়কসহ প্রত্যেকটি সড়কও গর্তে সয়লাব।
বাইপাস সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কালাম, কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী জানান, সড়কটির দুই পাশে ১০-১২টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং স্কুল-কলেজ রয়েছে। বিশালাকৃতির গর্তের কারণে জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরে চরম সমস্যায় পড়তে হয়ে। এ সড়ক দিয়ে যেতে হয় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। বর্তমানে এ সড়কের অবস্থা নাজুক। রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হলেও বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের হেঁটে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ পাটবাজার সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মো. বাবলু মিয়া জানান, রাস্তা খারাপ হওয়ায় একান্ত বাধ্য না হলে মানুষ এখন আর এ সড়কটি সবাই এড়িয়ে চলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি চাকরিজীবী জানান, একটা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তাঘাট এতটা নাজুক হতে পারে তা ভাবাই যায় না। এমন বেহাল অবস্থা যে সামান্য বৃষ্টি হলেই লোকজনকে হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট-কাপড় উঠিয়ে চলতে হয়। তিনি আরো জানান, বালুয়া চৌমুহনী থেকে কাশেম মাস্টার সড়ক, হাজি বাড়ির সড়ক, জামতলী বাজার সড়কগুলোও ভেঙেচুরে একাকার। বীমাকর্মী রহমত উল্যা পাটোয়ারী জানান, রামগঞ্জ কাঁচাবাজারের প্রধান সড়কটি এতই বেহাল অবস্থা যে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। এত দুর্ভোগ অথচ যেন দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, কয়েকটা রাস্তার টেন্ডার হয়েছে এবং আরো কিছু রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। আশাকরি কয়েক মাসের মধ্যে সকল রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে।
