সাভার উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নে একটি সেতুর অভাবে সাত গ্রামের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। রাজধানীর সন্নিকটে হওয়া সত্ত্বেও সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় ঐ গ্রামগুলোর হাজার হাজার বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রথম ধাপে ২০১১ সালে কন্ডা এলাকায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু গত আট বছরে সেতুর দুই পাশে দুটি স্থাপনা ও চারটি পিলার ছাড়া তেমন কোনো কাজই হয়নি। এরই মধ্যে ঠিকাদার বদল হয়েছে চারবার। আংশিক কাজ করে টাকা নিয়েছেন একাধিক ঠিকাদার।
সাভারের স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড), পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো বড়ো বড়ো একাধিক সরকারি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ইউনিয়নেই গোপাল বাড়িল, গাছপাড়া, বড়পাড়া, উনাইল, মধ্যপাড়া, লালটেক ও গোয়ালটেক গ্রাম অবস্থিত। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা সরাসরি যানবাহনে বাড়িতে পৌঁছতে পারে না। বংশী নদী পরিবেষ্টিত এসব গ্রামের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো ও বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করে। এসব গ্রামের মানুষ পায় না সঠিক চিকিত্সাসেবা। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়।
এলাকার লোকজন বহুদিন ধরে সড়কপথে যাতায়াতের জন্য বংশী নদীর ওপর ও কন্ডা এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। অথচ আট বছর আগে কন্ডা এলাকায় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও আজ অব্দি শেষ হয়নি। সাভার উপজেলা প্রকৌশলী জানান, মালামাল পরিবহনের সমস্যার কারণে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে চলে গেছেন। পুনরায় এক ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কন্ডা এলাকায় ৬৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের জন্য ২০১১ সালে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে অংশ নিয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় সেতু নির্মাণের কাজ পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। আংশিক কাজ করে ৮২ লাখ ১৭ হাজার টাকা বিল নিয়ে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যায়। বছর তিনেক পর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯১ হাজার টাকায় কাজ পায়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার ৭৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিল নিয়ে আংশিক কাজ করে আর করেনি। অবশিষ্ট কাজের জন্য তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৮ সালে। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় কাজ পায় আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবারও ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যায়। সর্বশেষ এবছর চতুর্থবারের মতো দরপত্র আহ্বান করা হলে ২ কোটি ১২ লাখ টাকায় অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজ শুরু করেনি।
