ঊর্ধ্বমুখী পাম অয়েল, সয়াবিন কমছে পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৯

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। গতকাল মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকায় এবং মিশর ও চায়নার পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে দাম এখনো চড়া। তবে পরিবহন ধর্মঘটে বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বেচাকেনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শুধু চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও পণ্য আনা যাচ্ছে না। ফলে বন্দর দিয়ে খালাসের অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে জানা গেছে।

কয়েক দিনের মাথায় খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা কমেছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজের চেয়ে মিশর ও চায়না পেঁয়াজের দামে বেশি দরপতন ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি তারা লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে প্রায় ১০০ গাড়ি পেঁয়াজ আসে। সেখানে গতকাল বুধবার ছয়-সাত গাড়ি পেঁয়াজ এসেছে। এ ব্যাপারে হামিদুল্লাহ খান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইউনুস আলী ইত্তেফাককে বলেন, পেঁয়াজের দাম কমলেও বেচাকেনা স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিবহন ধর্মঘটে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কেজিতে ১০-২০ টাকা লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল ইত্তেফাককে জানান, ‘গত ১২ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ৯০ হাজার ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬ হাজার ৮৭৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছেছে।’

জানা যায়, মিশর থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করা হয়েছে। ৬০ হাজার ৩২৪ মেট্রিক টনের মধ্যে এসেছে ৩ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড ও শ্রীলংকা। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজ দেশে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে। এসব পেঁয়াজ এলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসত।

এদিকে খাতুনগঞ্জের বাজারে ডাল জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তেল ব্যবসায়ী আহসান ইল্লাহ জাহাঙ্গীর ইত্তেফাককে বলেন, পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পাম অয়েল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় ও সয়াবিন ২ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার ৯৯০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে পাম অয়েলের দাম প্রতি মণে ২৫০-৩০০ টাকা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সয়াবিনের দাম তুলনামূলকভাবে কম বেড়েছে।’ সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচির। ৬০০ টাকা কেজির এলাচি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।