হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের পক্ষে মার্কিন সিনেটে একটি বিল পাশ হয়েছে। মঙ্গলবার সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাশ হয়। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যাবে। তিনি বিলটিতে অনুমোদন দেবেন কি না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। চীন বিল পাসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। এদিকে হংকংয়ের একটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে চলা অচলাবস্থার অবসান হয়নি। খবর সিএনবিসির
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন-কারীদের ওপর কর্তৃপক্ষ নির্যাতন করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে। হংকংয়ের মানবাধিকার রক্ষায় ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ নামের এই বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়। সিনেটে আরো একটি বিল পাশ হয়েছে যার অধীনে হংকংয়ে বিক্ষোভ দমনে ব্যবহূত জিনিসপত্র যেমন টিয়ার গ্যাস, পিপার স্প্রে, রাবার বুলেট এবং স্টেন গান রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথম বিল অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রতি বছরে পর্যবেক্ষণ করবেন হংকংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক আছে কিনা। এছাড়া হংকংয়ে মানবাধিকার লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারবে মার্কিন প্রশাসন।
বিলটি এরপর নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। যদিও পরিষদ নিজস্ব সংস্করণের একটি বিল ইতোমধ্যেই পাস করেছে। হোয়াইট হাউজের কাছে যাওয়ার আগে দুই কক্ষের পাস হওয়া বিলের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা নিরসন করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে অনুমোদন দেবেন কিনা সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হওয়ায় এতে ভেটো দেওয়া প্রেসিডেন্টের পক্ষে কঠিন হবে। আবার বিলটিতে অনুমোদন দিলে চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিনেটে বিলটি পাস হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, হোয়াইট হাউজ বিলটি ব্লক করে দেবেন। কারণ এর মাধ্যমে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে যা ভাল হবে না।
অচলাবস্থা কাটেনি
হংকংয়ের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির অচলাবস্থা কাটেনি। এখনো শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা আছেন ক্যাম্পাসের ভেতরে। ক্যাম্পাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম। কিন্তু অনেকেই বের হচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ ভয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অচলাবস্থা কাটাতে এখনই সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ক্যারি ল্যাম। এদিকে শহরের পুলিশ প্রধান পরিবর্তন করেছে চীন। নতুন পুলিশ প্রধান হিসেবে ক্রিস ট্যাং পিং কেওং শপথ নিয়ে বলেছেন, এখন হংকংয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাটা জরুরি। অবৈধভাবে অনেকেই পুলিশের ওপর হামলা করছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না। হংকংয়ের আন্দোলনকারীদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে চীনও।
